আগরতলা: যারা শুধুমাত্র হিন্দি ভাষায় কথা বলে এবং থানসা নিয়ে কথা বলে, তারা ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য খুবই সমস্যা প্রবণ এবং কেউ কেউ এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ারও স্বপ্ন দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রী না হয়েও টিটিএএডিসিতে যেভাবে নৈরাজ্য ও দুর্নীতির রাজত্ব চলছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী হলে কী হবে সেটা মানুষ বুঝতে পারেন।

                       
আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক যোগদান সভায় উপস্থিত থেকে এভাবেই কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                          
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ ১,৩৩৬ পরিবারের ৩,১৮৯ জন ভোটার ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করছেন। আমি ভারতীয় জনতা পার্টি ত্রিপুরা প্রদেশের পক্ষ থেকে তাদের স্বাগত জানাই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই নিজের মাতৃভাষায় কথা বলি এবং এরজন্য গর্বিত বোধ করি। যার যার মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখলে সাধারণত সেই গোষ্ঠীর নেতা (লিডার) হওয়া যায়। কিন্তু আমি যদি থানসা থানসা করি, অথচ থানসার কথা জানি না। তবে লিডার কোথা থেকে এলো। যেমন এখানে আমাদের লিডার কে? রেবতী ত্রিপুরা আমাদের লিডার। উনি ককবরক ভাষায় কথা বলেন। আর কে কথা বলেন? বিকাশ দেববর্মা। কিন্তু আমি যদি হিন্দি ভাষায় কথা বলি, আবার আপনাদের লিডার! তবে এটা কি ধরণের লিডার? আর এটাই বুঝতে হবে। আপনাদের লিডার বাছতে হলে উনাদের মতো লিডার খুঁজতে হবে। থানসা লিডার হতে হলে যে যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষা জানতে হবে। কিন্তু এতদিন হলেও সেই ভাষাই জানেন না। 
                          মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষ শুধুমাত্র একবার কাঁদে যখন কেউ তাদের সত্যিই কষ্ট দেয়, কিন্তু প্রতিদিন কান্না করা অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদের মতো অভিনয়। এটা একটি শিল্প এবং সবার পক্ষে সম্ভব নয়। কিছু লোক স্ক্রিপ্ট ইস্যুতে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করেছিল, আর আমাদের সাথে আলোচনার সময় তারা তাদের সুর পরিবর্তন করেছিল। তারা কিছু বলে এবং অন্য কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে তারা বলেছিল যে তারা মুখ্যমন্ত্রী হতে চায় না, তবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন জনজাতি সম্প্রদায়ের এবং থানসার জন্য। যাইহোক,গতকাল তিনি বলেছিলেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। এটা মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে রোমান লিপি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছি, এ সময় রাজ্যের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। হিন্দি ওয়ালা থানসা ত্রিপুরার জন্য সমস্যা প্রবণ। আপনার দল যদি আমাদের জনগণ ও কর্মরত কার্যকর্তাদের উপর হামলা করে, তাহলে আমরা কেন আপনার দাবি পূরণ করব? এভাবেই এদিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

                           আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজতন্ত্রের সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। আর এখন গণতন্ত্রের সময়। সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছাড়া আপনার কী আছে? কেউ কেউ আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রী না হয়েও এডিসিতে যেভাবে নৈরাজ্য ও দুর্নীতির রাজত্ব তৈরি করেছেন, তাতে মুখ্যমন্ত্রী হলে কী হবে, তা মানুষ বুঝতে পারেন। তাই জনজাতি ভাই-বোনেরা বিজেপির ওপর আস্থা রাখছেন। আমি সবসময় বলি তিপ্রা মথা আমাদের জোট সঙ্গী। আসুন, বসুন, কথা বলুন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি আমাদের আক্রমণ করবেন এবং ষড়যন্ত্র করবেন। মানুষ সব বুঝে গেছে। বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। আমাদের রাজ্যে ১২ জন মন্ত্রী রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৫ জনই জনজাতি সম্প্রদায়ের। টিপিএসসি চেয়ারম্যানও জনজাতি সম্প্রদায়ের এবং স্পিকারও (অধ্যক্ষ) জনজাতি সম্প্রদায়ের। আপনি যদি জনজাতির জন্য উন্নয়ন এবং অগ্রগতি চান তবে তা শুধু বিজেপিই করতে পারে। বিজেপিকে কেউ দমাতে পারবে না। আমরা জনজাতি জনগণের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। 

                               এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, সহ সভাপতি তাপস ভট্টাচার্য, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা সহ এডিসি সদস্যগণ, জেলা সভাপতিগণ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং নেতৃত্ব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *