আগরতলা: সুষ্ঠুভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে আসছেন টিসিএস আধিকারিকগণ। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সকলের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আজ ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এডি নগরের ৩৯ নং ওয়ার্ডে আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এই ৩৯ নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বামীজির প্রতিটি কথা আমাদের উদ্বুদ্ধ করে, সামনের দিকে চলার পথে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে যুব সমাজকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি।

ডাঃ সাহা বলেন, আজ এখানে ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম একটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তারাও মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ সবসময় অনুভব করেন। বিপর্যয়ের সময়ে তারা প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। যা খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়াও স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির করা সহ গরীব ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। ব্লক, মহকুমা, জেলা ও রাজ্য স্তরে তারা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নিজেদের কাজ ছাড়াও অন্যদের জন্য তারা যে কাজ করছেন সেটা মানুষ দেখছেন। আর এটাই হওয়া বাঞ্চনীয়। প্রতিবারই কাজের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টা প্রমাণ করছেন তারা।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের সমস্যার সময়ে যখন কেউ এগিয়ে আসেন তিনিই সত্যিকারের বন্ধু, সমাজের বন্ধু। বিপদের সময় কেউ এগিয়ে আসলে সেটা সারা জীবন মানুষ মনে রাখে। আজ যারা এখানে শীতবস্ত্র পাবেন তারা কিন্তু উপস্থিত সকলের পাশাপাশি ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগকে সারা জীবন মনে রাখবেন। আর এই সামাজিক উদ্যোগের ফলে অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনগুলিও উদ্বুদ্ধ হবে। শুধু সরকারের পক্ষে একা সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তাই এধরণের সংস্থাগুলি মানবিক কাজে এগিয়ে এলে সরকারের পক্ষেও সুবিধা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ একটা উল্লেখযোগ্য দিনে সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে এধরণের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার জন্য টিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। মানুষকে সাহায্য করার বিনিময়ে কি পাবো সেটা না ভেবে সহায়তার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এতে আত্মতুষ্টি বোধ হবে। যেমন রক্তদান করলে মানুষের সঙ্গে একটা সংযোগ স্থাপন করা যায়। আমাদের মানুষকে নিয়েই চলতে হবে। কাউকে পর ভাবলে চলবে না। সবাইকে সবাইয়ের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এর মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস, সবকা বিশ্বাসের ভাবনা ফলগ্রসু হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অসীম সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্যামল কুমার দেব, পুর নিগমের কর্পোরেটর অলক রায় সহ অন্যান্যরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *