আগরতলা: ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ছাত্রছাত্রীদের লব্ধ শিক্ষা সমাজের ও দেশের কল্যাণে উজার করে দিতে হবে। তবেই আজকের ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যৎ জীবনে নিজেদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। আর উন্নয়নের আরেক নাম হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার।

আজ ফটিকরায় বিধানসভা এলাকায় আজ পিএম-শ্রী হাজিবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল ভবনের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী আজ ফটিকরায় বিধানসভা এলাকায় পিএম -শ্রী হাজিবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন পাকা ভবনের উদ্বোধন ছাড়াও মনু নদীর উপর ১২ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সায়দারপাড় থেকে কুমারঘাটের সারদাপল্লির মধ্যে নতুন সেতুর শিলান্যাস ও ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে ষষ্ঠ মিলন মেলা-২০২৬ এরও উদ্বোধন করেন।

এসব অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস, উনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, জেলাশাসক ড. তমাল মজুমদার, পুলিশ সুপার সুদাম্বিকা আর। মিলন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সুমতি দাস সহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য, সায়দারপাড় থেকে সারদাপল্লির মধ্যে মনু নদীর উপর ডবল লেনের সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১৪৮.২০ মিটার এবং এর প্রশস্ত হবে ৮.৫০ মিটার। এই সেতুটি নির্মাণ হলে রাতাছড়া, কাঞ্চনবাড়ি, ফটিকরায় পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ সহজেই কুমারঘাটে আসতে পারবেন। মনু নদীর উপর পাকা সেতুর শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এই সেতুটি নির্মাণ হলে এই এলাকার ছয় সাত হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সহজেই কুমারঘাটের বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের কুমারঘাট রেল স্টেশনও খুব কাছে হয়ে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের সমস্যার উপলব্ধি করে উন্নয়নের কাজ করছি। উন্নয়নের কাজে কোথাও যেন কোনও ফাঁক না থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করছি। এই সেতু নির্মাণ হলে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অ্যাক্ট ইস্টের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এরফলে ত্রিপুরাকে হীরা মডেলে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। রেল যোগাযোগে রাজ্য অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। এখন অত্যাধুনিক রেল ট্রেক আসায় মানুষের রেল ভ্রমণও সুখদায়ক হয়েছে। পাশাপাশি সারা রাজ্যে রাস্তাঘাটের দারুণ উন্নয়ন হয়েছে।

মহিলা ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বসহায়ক দলের মাধ্যমে রাজ্যে ১ লক্ষ ১৮ হাজার লাখপতি দিদি তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮ হাজারের উপর লাখপতি দিদি তৈরি করা গেছে। যা সাফল্যের প্রায় দোরগোড়ায়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মহিলাদের নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা এগিয়ে রয়েছে। মহিলারা এখন রাতেও ভয়মুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারেন। সারা দেশে এখন ত্রিপুরা অপরাধে ৮.২ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। যা সারা দেশে ২৮টি রাজ্যের মধ্যে নীচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এটাই হলো উন্নয়ন।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং (পি.এ.এল.)-এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যক্রমেরই একটি অঙ্গ। শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পথ। আমরা চাই শিক্ষাক্ষেত্রে স্কুলগুলির মধ্যে সুস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা হোক। উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সরকারি, বেসরকারি ক্ষেত্রে অনেকগুলি বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যে রয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমবাসায় আরেকটি মেডিক্যাল কলেজ খোলা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য বহিরাজ্যে যাওয়ার প্রবণতাও কমে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আমরা নৈতিকতার শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তুলতে চাইছি।

ফটিকরায়ে আয়োজিত মিলন মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বহমান বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে তুলে ধরতে কাজ করছে সরকার। এখানকার জাতি জনজাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। নেশার বিরুদ্ধে লড়াই করে নেশাগ্রস্ত যুবকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। একাজে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন। মিলন মেলা রাজ্যের সংস্কৃতি পরিমন্ডলকে তুলে ধরতে ও যুবদের সাংস্কৃতিক জীবন বোধে উজ্জীবিত করতে আয়োজন করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *