আগরতলা: ত্রিপুরার কৃষকেরা যারা অর্গানিক চাষে যুক্ত আছেন, তারা ইতিমধ্যেই এর সুফল পাচ্ছেন। গত তিন বছরে রাজ্য থেকে অর্গানিক পণ্যের মাধ্যমে ৮.৭৯ কোটি টাকার রপ্তানি করা হয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে।

এটি আজ ত্রিপুরা বিধানসভায় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ এই তথ্য জানায় ।

মন্ত্রী জানান মানব সম্পদই সবচেয়ে বড় সম্পদ, এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রাকৃতিক ও অর্গানিক চাষের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন অর্গানিক চাষ আগে থেকেই ছিল। এখানে আমরা কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক ব্যবহার করি না; এটিকে প্রাকৃতিক চাষও বলা হয়। কোভিড কালীন সময়ে মানুষ অর্গানিক চাষের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার বুঝতে পেরেছে। প্রাকৃতিক বা অর্গানিক চাষে, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আমাদের রাজ্যে কেবল ২৪% জমি চাষযোগ্য, তাই খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ৫০,০০০ হেক্টর জমিকে অর্গানিক ও প্রাকৃতিক চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছি। প্রাকৃতিক ও অর্গানিক চাষকে সামনে রেখে, কেন্দ্র সরকার ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য ‘মিশন অর্গানিক ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০% কেন্দ্রীয় অর্থায়ন প্রদান করেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরায় ২,০০০ হেক্টরে অর্গানিক চাষ শুরু হয়েছিল, যা গত আট বছরে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬,৫০০ হেক্টরে পৌঁছেছে।
২০১৬-১৭ সালে কেবল সুগন্ধি চাল, হলুদ, আনারস, আদা ও মরিচ স্ব-উপভোগের জন্য চাষ করা হতো। বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা চাষের এলাকা সম্প্রসারিত করেছি, এবং বর্তমানে প্রায় ২৬,৮৮৪ কৃষক অর্গানিক চাষে যুক্ত। আগে যেখানে ১৩২টি অর্গানিক ক্লাস্টার ছিল, তা এখন ১,২৭৬। ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানি (FPC) সংখ্যা ৪ থেকে বেড়ে ৪৯ হয়েছে। বর্তমানে সুগন্ধি চাল, আনারস, বার্ড আই চিলি, গন্ধরাজ লেবু, তিল, কাঁঠাল, কমলা সহ আরও বহু ফসল চাষ করা হচ্ছে। আমরা বিগ বাস্কেট (কলকাতা), মাদার ডেইরি (দিল্লি), সিকিম, ব্যাঙ্গালোর এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ অর্গানিক লিমিটেডের মতো বহিরাজ্যের এবং অন্যান্য দেশের কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আমাদের পণ্য রপ্তানি করছি।

তিনি বলেন গত তিন বছরে রাজ্য থেকে ২৯.৫৮ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল, ৫০১ মেট্রিক টন আদা, ৫২.৫০ মেট্রিক টন হলুদি, ১৭.১০ মেট্রিক টন বার্ড আই চিলি, ৩২.৫৬ মেট্রিক টন লেবু এবং ৫৫৪ মেট্রিক টন আনারস অন্য রাজ্য ও বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। এফপিসি কৃষকদের সহায়তা করে এবং আমরা ৫০টি পরিবহন যান এফপিসি-কে প্রদান করেছি। গত তিন বছরে অর্গানিক পণ্যের মাধ্যমে ৮.৭৯ কোটি টাকার রপ্তানি হয়েছে। এখন কৃষকরা অর্গানিক চাষের সুফল পাচ্ছেন, এবং আমরা আয়কে দ্বিগুণ করার জন্য কাজ করছি। বর্তমানে ১০টি অর্গানিক আউটলেট খোলা হয়েছে, এবং আরও খোলা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *