আগরতলা : ডিএ ও ডিআর ঘোষণা ঘিরে মঙ্গলবার ত্রিপুরা বিধানসভায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ‘জিরো আওয়ার’-এ বিষয়টি উত্থাপন করে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা-র সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী যে ৫ শতাংশ ডিএ ও ডিআর বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার স্মারকলিপি বিধানসভায় পেশ করা হোক। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট-পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সুদীপ রায়বর্মণ বলেন, “ডিএ মঞ্জুরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অন্ধকারে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা মন্ত্রীপরিষদের প্রতি অসম্মানজনক।”

তাঁর এই বক্তব্যে বিধানসভায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে জানান, সমস্ত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিধি মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মকানুন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভার স্মারকলিপি বিধানসভায় পেশ করতেও আমরা প্রস্তুত।” এই সময় আলোচনায় হস্তক্ষেপ করেন বিজেপির মুখ্য সচেতক তথা বিধায়িকা কল্যাণী রায় ।

তিনি বলেন, বিধানসভা একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং এখানে বক্তব্য রাখার সময় সকলেরই শালীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এই সভার নেতা হিসেবে সম্মানের দাবিদার এবং আলোচনা যেন সেই মর্যাদা বজায় রেখেই করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে এবং ডিএ-ডিআর ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *