আগরতলা: কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ কেন্দ্রিয় সরকারের কাছে ত্রিপুরার কৃষকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরকেভিওয়াই-ডিপিআর প্রকল্পের অধীনে ৩০,০০০ হেক্টর হাইব্রিড ধান চাষের সুবিধা দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করেছেন।

মন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন আজকের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আর্থিক পর্যালোচনা সভায়, যা সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।এই সভায় মোট ১৮টি রাজ্যের মধ্যে ত্রিপুরাও উপস্থিত ছিল।কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেছেন যে, রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা এবং ব্যয়ের ধারা সন্তোষজনক।সভায় মন্ত্রী রতনলাল নাথ জানিয়েছেন, প্রধাণ মন্ত্রী জাতীয় কৃষি উন্নয়ন যোজনা (PM-KVY) আড়ম্বরিত প্রকল্পের অধীনে রাজ্য ইতিমধ্যেই ৭৯ শতাংশ তহবিল ব্যয় করেছে এবং কৃষি উৎপাদ যোজনা আড়ম্বরিত প্রকল্পের অধীনে ৬১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক চাষ প্রকল্পেও ৬১ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার চলতি অর্থবছরে প্রাপ্ত সমস্ত তহবিল ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে এবং কৃষকদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি করেছে।তিনি বলেন আমাদের রাজ্য দেশের শীর্ষ ৫টি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যয়ের ক্ষেত্রে।সভায় তিনি আরও জানান যে, রাজ্য সরকার কৃষি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।এই জন্য মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ (SMAM) প্রকল্পের জন্য আরও ২০ কোটি টাকা অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যে ফার্ম আইডি তৈরির কাজ চলছে। যেহেতু রাজ্যের ১,২৫,০০০-এর বেশি উপজাতীয় কৃষক RoFR পাট্টার অধিকারী, তাই তাদের জন্য এই পরিচয়পত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হয়।তিনি বলেন রাজ্যের অধিকাংশ কৃষকের স্বার্থ এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে বিবেচনা করে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা মিশন প্রকল্পে ধান চাষের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ কৃষক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। তাই আরকেভিওয়াই, FNS, জাতীয় পাম তেল মিশন ইত্যাদির প্রকল্পে বর্তমান ব্যয় মান বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী সমস্ত দাবির বৈধতা মেনে নেন এবং জানান যে, এগুলো শীঘ্রই পূরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল অনুমোদন করা হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা ড. ফণিভূষণ জমাতিয়া এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *