আগরতলা:উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত।এনিয়ে টানা তিন দিন। শুক্রবার সকাল থেকে মেয়রের উপস্থিতিতে দূর্গা চৌমুহনী এলাকায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। ফুটপাতে দোকানসহ অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে ফেলা হয়।এদিন অভিযান চলে লেইক চৌমুহনী বাজারেও।

এদিন দূর্গা চৌমুহনী বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সময়ে নিগম কর্মীকে মারধর করা হয় বলে এক দোকানের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। পরবর্তী সময়ে নিগমের কর্তৃপক্ষ ওই দোকানের ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় মা দুর্গা টেক্সটাইলের যা বন্ধ করে দেয়। রাস্তার পাশে কিংবা ফুটপাতে লাগিয়ে রাখা অনেক ডাক্তার এবং দোকানের সাইনবোর্ড ও খুলে নিয়ে যায় পুর নিগম কর্মীরা। রাস্তা পাশ এবং ফুটপাত পরিষ্কার করে দেওয়া হয় এদিনের অভিযানে।ফুটপাত, রাস্তা এবং কভার ড্রেন দখল মুক্ত করার জন্য আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান জারি রয়েছে।ফুটপাতের পর এবার রাস্তা দখল মুক্ত করার কাজে নামল আগরতলা পুর নিগম।

শুক্রবার সকাল থেকেই বেআইনি রাস্তা দখল ও অবৈধভাবে পার্কিং করা গাড়ি গুলো তুলে নিল পুর নিগম এবং ট্রাফিক দপ্তর।দোকানপাট উচ্ছেদের পর রাস্তার পাশে থাকা গাড়িগুলো তুলে নিয়ে যায় ট্রাফিক ও পুর নিগম।এদিন মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, যারা অবৈধ দখলদারির উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাদের কোন না কোন স্বার্থ রয়েছে।রাজ্য বাসী সঙ্গে সারা শহরবাসী চাইছেন যারা রাস্তা,কভার ড্রেন দখল করে মানুষের স্বাভাবিক জীবন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং অসুবিধার সৃষ্টি করছেন,এই ধরনের কার্যকলাপকে যারা সমর্থন করেন নিশ্চয়ই তাদের কোন স্বার্থ জড়িত রয়েছে।মানুষ তাদেরকে সমর্থন করবে না।

মেয়র বলেন,পুর নিগমের উচ্ছেদ অভিযানে মানুষ খুব খুশি। বেআইনি ভাবে রাস্তা দখল ও ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে আরক্ষা দপ্তর,ট্রাফিক বিভাগ এবং পুর নিগম ব্যবস্থা নিচ্ছে। কে কি বলল এই বিষয়ে প্রশাসন কোন গুরুত্ব দেয় না।বিরোধীদের কাজই হলো উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলা। কারণ তাদের অন্য কোন কাজ নেই।পুর নিগমের লক্ষ্য হচ্ছে শহরবাসী যেন সুন্দর ভাবে চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা।যতদিন পর্যন্ত বেআইনি দখল মুক্ত না হয় ততদিন পর্যন্ত ধারা বাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

সেই জন্য জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন মেয়র দীপক মজুমদার।মেয়র এই দিনও বলেন, ফুটপাত,রাস্তা এবং কভার ড্রেন ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও নিরাপদ জায়গায় গাড়ি রাখার জন্য। তিনি বলেন শহরে বেআইনি ভাবে পার্কিং করা যাবে না। মেয়র আরো বলেছেন, আগে বেশ কয়েকবার অভিযান হলেও ফুটপাত পুনরায় দখল করে নেয়া হয়।এমনকি যারা ভেন্ডার লাইসেন্স নিয়েছেন তারা নিজেদের দোকান কিংবা ঠেলাগাড়ি রাস্তায় রেখে দেন।এতে করে শহরবাসীর চলাফেরা করতে খুবই সমস্যা হয়।তাই শহরবাসীকে চলাচলের সুযোগ করে দিতে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে রাখার বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলবে। মেয়র দীপক মজুমদার জানিয়েছেন, মানুষের চলাচল এবং নিকাশি ব্যবস্থা যেন স্বাভাবিক থাকে তার জন্যই পুর নিগম কাজ করছে। শুধু মূল রাস্তায় নয়, অলিগলি সর্বত্র তারা পরিষ্কার করবেন বলে জানিয়েছেন।

মেয়র ফের ভেন্ডার লাইসেন্সের শর্তগুলি মনে করিয়ে দিয়েছেন। তার কথা অনুযায়ী, ৬ ফুট বাই ৪ ফুট ট্রলি থাকতে হবে।চার চাকা বা তিন চাকা সচল থাকতে হবে এবং রাতে এগারোটার পর ট্রলি সরিয়ে ফেলতে হবে।আবার পরদিন সকাল ১১টার পর ব্যবসার জায়গায় বসতে পারবে।যারা নিয়ম অমান্য করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেয়র বলেন যে সমস্ত নেতাদের কথায় একাংশ ব্যবসায়ী উচ্ছেদের পরও আবার রাস্তা দখল করে বসছেন তাদের ক্ষতি হবে। মেয়র বলেন পুর নিগম এবং সরকার মানবিক। কিন্তু কোন নেতা ধরে আসলে কোন ব্যবসায়ীকে সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন দিনের বেলায় রাস্তা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলবে। রাতের বেলায় রাস্তার উপর এবং কভার ড্রেনের উপর গাড়ি থাকলে তুলে নিয়ে যাবে ট্রাফিক দপ্তর,পুর নিগম এবং আরক্ষা প্রশাসন। এখন থেকে ধারা বাহিক অভিযান চলবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *