আগরতলা।। আগরতলা পুর নিগমের সমস্ত ৫১টি ওয়ার্ডে পানীয় জল সরবরাহের জন্য তিতাস নদী থেকে জলের ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আজ আগরতলার কামান চৌমুহনী সংলগ্ন বিবেকানন্দ টাউনশিপ প্রকল্পের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এই জায়গায় ৪৮টি আবাসন নির্মাণের সময় বেশকিছু সমস্যা হয়েছিল। আমাদের সরকার স্বচ্ছ এবং আমরা জনগণের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। এই আবাসনগুলি নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠী, মধ্যম আয়ের গোষ্ঠী এবং উচ্চ-আয়ের গোষ্ঠীর জন্য করা হয়েছে। আমরা এই আবাসনের মালিকদের কাছে চাবি হস্তান্তর করার অপেক্ষায় ছিলাম এবং এখন আমরা সেটা করেছি। আমি টুডাকে এই ধরণের আবাসন নির্মাণের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আর এই আবাসনগুলি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং উন্নয়ন ছাড়া কোনও কথা নেই। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমরা প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। আর এটাই বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের লক্ষ্যে সুন্দর ভবন নির্মাণের জন্য টুডা গঠন করেছি। আমরা সমস্ত বিধি মেনে সুউচ্চ বিল্ডিং নির্মাণের জন্যও অনুমতি দিয়েছি। টুডার মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আধুনিক মানের ফ্ল্যাট তৈরি করা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা রাস্তাঘাট নির্মাণ করছি। ভগত সিং যুব আবাসের কাছে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১৬টি আবাসনের আরেকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এটি আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে শেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাহ্যিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির (এক্সটার্নালি এইডেড প্রজেক্টস) জন্য লোনের পরিমাণের বোঝা সরানোর জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২০টি শহর এলাকায় জিআইএস (GIS) মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে আগরতলা শহরের মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্যাটেলাইট টাউন ডেভেলপমেন্ট এবং মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ন এই দুটি প্রকল্পে রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজে ৫ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়াও এডিবি’র অর্থনাকূল্যে মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৩০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
পানীয়জল বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, হাওড়া, কালাপানিয়া বা কাটাখালের জল তিতাস নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। আমরা চিন্তা ভাবনা করছি যে আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডে তিতাস নদী থেকে পানীয়জল সরবরাহ করার। এবিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুসারে হয়, তবে আমরা বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে উত্থাপন করবো। যাতে আমরা আয়রন মুক্ত জল সরবরাহ করতে পারি। আমরা এনিয়ে কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, ত্রিপুরা আরবান প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কমিশনার মিহির কান্তি গোপ, পুর নিগমের কমিশনার দিলীপ কুমার চাকমা, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। চারতলা বিশিষ্ট এই আবাসন তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। আবাসনের নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘন্টা সিসিটিভি নজরদারি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, লিফটের সুবিধা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা, জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।