আগরতলা: বসন্তকালের আবহাওয়াই আমাদের মনে এক আনন্দের দোলা দেয়। ফাল্গুন চৈত্র দুমাস বসন্তকাল। চারদিকে পলাশ ও শিমুল ফুলের মনোহর দৃশ্য। চৈত্র মাস আসতেই বাসন্তী পূজা বা দূর্গা পূজার আগমন বার্তার পরশ আমাদের মনে আনন্দের অনুভূতি বইতে থাকে।বসন্ত কালে মায়ের পূজা হয় বলে তাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়ে থাকে।
এই দুর্গাপূজাই হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ পূজা। বসন্তকালের দুর্গা পূজাই প্রাচীনতম দুর্গাপূজা।বুধবার মহাসপ্তমী তিথির মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে চার দিন ব্যাপী বাসন্তী পুজা।দেবি দূর্গার অন্য প্রতিরূপ দেবী বাসন্তীর পুজা হয় চৈত্র শুক্লা তিথিতে অর্থাৎ বসন্ত কালে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে,রাজা সুরথ নিজের রাজ্য ফিরে পেতে ঋষি মেধসের পরামর্শে প্রথম বসন্তকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন।
তখন ছিল বসন্তকাল, শুক্লপক্ষ। প্রতিপদ থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত নবরাত্রি, তারপর দশমী। এভাবেই রাজা সুরথ দূর্গা পূজা করে ছিলেন। তাই একেই দেবী দুর্গার আদি পূজা বলে গণ্য করা হয়।শরৎকালের দুর্গাপূজাকে ‘অকাল বোধন’ বলা হয় কারণ ভগবান রামচন্দ্র অকালে দেবীকে জাগ্রত করেছিলেন। রাজ্যেও ধুমধামের সঙ্গে বিভিন্ন বাড়ি, ক্লাব ও সংস্থার উদ্যোগে এই পুজার আয়োজন করা হয়েছে। আগরতলার দূর্গাবাড়িতে সরকারী আয়োজনে চিরচরিত প্রথা অনুযায়ী এবছরও বাসন্তী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
সপ্তমী পূজায় ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও বাসন্তী পূজার মহা সপ্তমী উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা মন্ডবে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। ভক্তদের মধ্যে অনেকেই উপবাস থেকে মহাসপ্তমীর পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন মা দুর্গার প্রতি।
