আগরতলা:প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশজুড়ে ধারাবাহিক সংস্কার মূলক পরিবর্তনের পথে আরো এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চালু হতে চলেছে বিকশিত রোজগার ও আজীবিকা মিশনের গ্যারান্টি আইন। এই আইন ঐতিহাসিক পদক্ষেপ এবং এটি গ্রামীণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সাহায্য করবে।

শুক্রবার প্রদেশ বিজেপি অফিসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই অভিমত প্রকাশ করলেন রাজ্যের শ্রম মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বিল পাস হওয়ার পর কংগ্রেস এবং সিপিআইএম মানুষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রম মন্ত্রী বলেন, মহারাষ্ট্র এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি এক্ট ১৯৭৭ কে মাথায় রেখে এই অভিজ্ঞতা এম জি এন রেগাতে পরিণত হয়েছিল। যা গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য একটি দেশব্যাপী আইনি কাঠামো প্রদান করে।

যদিও এর মধ্যে অনেক ফাঁক ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক পদক্ষেপ দিচ্ছে এবং তার জন্য তিনি বলছেন যে সংস্কার প্রয়োজন এবং এর জন্য সহজতা নিশ্চিত করা হবে। ভি বি জি রামজি আইনের লক্ষ্য হল এম জি এন রেগাকে একটি নতুন কাঠামোর সাথে প্রতিস্থাপন করা। যার মধ্যে রয়েছে উচ্চতর কাজের গ্যারান্টি, গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য নিবেদিত তহবিল এবং এর আগের টেকসই পরিকাঠামো তৈরির উপর ফোকাস করা ছিল। যুব সমাজ স্বনির্ভর হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

গ্রামের মাটি যেমন নীরবে ফসল ফলায়, তেমনিই নিরবে বয়ে চলে শ্রমিকের ঘাম। সেই ঘামের মর্যাদা, সেই মাটির ভবিষ্যত আরো শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতেই কেন্দ্রীয় কেন্দ্র সরকার মনরেগা নতুন রূপ দিয়ে প্রণয়ন করেছে ভি বি জি রামজি আইন ২০২৫। গ্রামীণ উন্নয়নের এই নতুন অধ্যায়ের কথা আজ সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরলেন শ্রম মন্ত্রী টিংকু রায়। মন্ত্রী বলেন এটি শুধু একটি সংশোধিত আইন নয়, এটি গ্রামীণভারতের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের দিন সংখ্যা বাড়িয়ে ১২৫ করা হয়েছে।

এই বাড়তি কর্মসংস্থানের জন্য অর্থ বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।মন্ত্রী বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য কেন্দ্রের সহায়তা ৯০% বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার বহন করবে মাত্র ১০%। নতুন আইনের জল সংরক্ষণ, জল নিরাপত্তা, সম্পদ সৃষ্টি, জীবিকা উন্নয়ন, গ্রামীন পরিকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একসময় শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল মজুরি পেত দেরি হতো। এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে যাচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন স্বচ্ছতা বেড়েছে, তেমনি বন্ধ হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীর রাস্তা। দুর্নীতি ও আর্থিক লিকেজ রুখতেই এই ডিজিটাল কাঠামো। এখন থেকে গ্রামের মানুষকে আর শহর কেন্দ্রিক থাকতে হবে না। এই উদ্যোগের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ৯৫ হাজার কোটি টাকার অধিক অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কৃষি,ক্ষুদ্র শিল্প, পরিষেবা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলিতে কেন্দ্র করে গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মক্ষেত্র করে তোলা হবে।

১২৫ দিনের সঙ্গে যখন কৃষকের কৃষি কাজ থাকবে না, তখন রাজ্য সরকার ৬০ দিনের কাজ কৃষকদের দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এই আইনে। অর্থাৎ ১৮৫ দিনের কাজ পাবে গ্রামীণ শ্রমিক ও কৃষকরা।সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরায়ও গ্রামীন অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণের এটি একটি শক্ত ভিত তৈরি করবে বলে মন্ত্রী আসা ব্যক্ত করেন।

এটি গ্রামীণ ভারতের জন্য এক নতুন প্রতিশ্রুতি যেখানে কাজ আছে, সম্মান আছে আর আছে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা।মন্ত্রী বিরোধীদের এক হাত নিয়ে বলেন তারা আইনের সমস্ত কিছু না জেনেই অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *