আগরতলা: প্রকৌশলীরাই রাজ্যের অগ্রগতির প্রকৃত স্থপতি। ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা উন্নয়নের যাত্রা এক অপরিহার্য শক্তি। প্রযুক্তি যত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, ততই আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন ভাবে চিন্তা করা অত্যন্ত জরুরী।
শনিবার আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে আয়োজিত স্টেইট ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের ত্রিপুরার ৫৬ তম বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনের উদ্বোধন করে এই কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ভার প্রাপ্ত পূর্ত মন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন টিআইটিকে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান সবচেয়ে বেশি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাজের গুণগতমান নিম্নমানের হলে সেটা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার কে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় না। সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে।কারণ ইঞ্জিনিয়ার পর্দার আড়ালে থাকেন। তাই পরিকাঠামো শক্ত হলে চ্যালেঞ্জ করতে পারে সরকার। ত্রিপুরার অনেক ইঞ্জিনিয়ার বর্তমানে দুবাইয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইঞ্জিনিয়াররা চাইলে এমন কোন কাজ নেই যে তারা করতে পারে না। আগের পরিবেশের সঙ্গে বর্তমান পরিবেশের অনেক তফাৎ রয়েছে। মানুষ চায় সুন্দর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে। মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আগে সংগঠনের নেতা ঠিক করে দিত দলীয় কার্যালয় থেকে।বর্তমান সরকারের সময়ে সেই নিয়ম এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
সংগঠনের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেবে কারা সংগঠনের নেতৃত্ব হবেন। কাজের উপর ভিত্তি করেই সংগঠন গড়ে তুলতে হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ইঞ্জিনিয়ারদের মাঠে ময়দানে আরো বেশি করে কাজ করতে হবে।তাহলে ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গর্ববোধ করতে পারবে সরকার। ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন ডিজিটাল যুগেও নেই। এ আই যুগে এসে গেছে সকলে।ঘরের ভেতরে বসে থেকেই ইঞ্জিনিয়াররা এখন কাজ করতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সংসদ সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য নতুন ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীরা আহ্বানকে সার্থক করে তুলতে ইঞ্জিনিয়ারদের আরো বেশি দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তো দপ্তরের সচিব কিরণ গীত্যে, স্টেট ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত দাস সহ অন্যান্যরা। এদিন স্টেট ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দুই লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
