আগরতলা।পূজার্চনা ও ভগবানের আরাধানার মাধ্যমে আমরা নিজেকে চিনতে পারি। প্রতিটি মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করতে হবে। অথচ রাজ্যের পূর্বতন সরকার এসব পুজো পাঠে বিশ্বাস করতো না। তারা রাজ্যের উন্নয়নের জন্য মহারাজাদের অবদান পর্যন্ত অস্বীকার করেছে।
আজ আগরতলা পুর নিগমের ২০ নং ওয়ার্ড এলাকার পুরান থানা রোডে নবরূপে সাজিয়ে তোলা রাজন্য আমলের ঐতিহ্যবাহী পাড়াসুন্দরী কালী মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। রাজ্যের সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ঘুরে দেখার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান রাখেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজন্য আমলে নির্মিত হওয়া এই পাড়াসুন্দরী কালী মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আগের সরকার এটির সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণে কোন ধরণের উদ্যোগ নেয়নি। তবে আমাদের সরকার এলাকাবাসীর দাবি মেনে এই মন্দিরটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলেছে। পূর্বতন সরকার পুজো পাঠে বিশ্বাস করতো না। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর একটা গণজাগরণ হয়েছে।
সনাতন ধর্ম আছে বলেই ভারতবর্ষের সভ্যতা অটুট রয়েছে। যদিও ভারতবর্ষে সুদীর্ঘ বছর মোঘল, ইংরেজরা শাসন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের সময়ে আগরতলা শহরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। আগরতলার পাশাপাশি ত্রিপুরাকে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেটা বাজার হোক, কিংবা স্কুল, কলেজ। যদিও মহারাজাদের অবদানকে পর্যন্ত অস্বীকার করতো রাজ্যের পূর্বতন সরকার। ইতিহাস কিন্তু স্মরণ করতে হবে আমাদের। ডাঃ সাহা বলেন, আমাদের দেশের অর্থ যাতে বাইরে না যায় তার উপর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ আমাদের দেশে অনেক সুন্দর সুন্দর পর্যটন স্থান রয়েছে।
অনুরূপভাবে আমাদের রাজ্যেও অনেক মনোমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। অথচ আমরা সেখানে না গিয়ে বাইরে যেতে চায়। তাই সেই সব পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ঘুরে দেখার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চাই স্মার্ট সিটি। সেই সঙ্গে নিজেদেরও স্মার্ট চিন্তাভাবনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার আহ্বান দিয়েছেন। সেভাবে আমরাও বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, পুর নিগমের কমিশনার ডি কে চাকমা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। উল্লেখ্য, জনগণের আবেগকে সম্পূর্ণ মাথায় রেখে শ্রী শ্রী পাড়াসুন্দরী মায়ের বিগ্রহ সম্পূর্ণভাবে অপরিবর্তিত রেখে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ও মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে। এই কালী মন্দিরের সংস্কার ও সাজিয়ে তোলা বাবদ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।