আগরতলা :কৃষি ঋণ মুকুব, রেগা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও বন অধিকার আইন কার্যত করা সহ একাধিক দাবি নিয়ে লালঝাণ্ডা হাতে নিয়ে কৃষক,জুমিয়া,ক্ষেত মজুরদের ১২ দফা দাবিতে বিধানসভা অভিযান।উত্তপ্ত শহর আগরতলা।

১২ দফা দাবিতে বিধানসভা ও অভিযান আটকে দিল পুলিশ। বামেদের বিধানসভা অভিযান শুরুর আগে ব্যর্থতার পরিচয় দিল সদর পুলিশ প্রশাসন। বার দফা দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় সারা ভারত কৃষক সভা, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ ও ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের উদ্যোগে বিধানসভা অভিযান কর্মসূচি। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়ের নেতৃত্বে লোক দেখানো শতাধিক পুলিশ ও টিএসআর কর্মী নিয়ে রণ সাজে সজ্জিত ছিল এবং মিছিল শুরুর মুখে ব্যারিকেট দিয়ে রাখে।

কিন্তু মহকুমা পুলিশ প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মিছিল ওরিয়েন্ট চৌমুহনী এর দিকে মুখ করে শুরু হয়ে যায়। পুলিশের বাধা এড়িয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিল যখন উত্তর গেটে পৌঁছায় তখন পুলিশ বামপন্থী কর্মীদের সাথে ধ্বস্তি ধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সদর মহকুমা প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ ও টিএসআর কর্মীরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দিন। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাধা চরণ দেববর্মা, ক্ষেত মজুর ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক শ্যামল দে, জি এম পি নেতা অঘোর দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।

সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পবিত্র কর জানান, মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিক এর নিকট বিধানসভা অভিযানের বিষয় নিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও মিছিলকে আটকে দেওয়া হয়েছে। উনার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, ঘড়ি ও চশমা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার বিচার হবে, বিজেপির পতন শুরু হয়েছে, মানুষ জেগেছে, তিনি অভিযোগ করেন বিজেপির সমাজ বিরোধীরা তার বাড়ি পুড়েছে।

এদিকে সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে মহিলা, কৃষক, শ্রমিক সহ সবার অবস্থা বেহাল। বিশেষ করে কৃষকদের ন্যায্য পাওনা মিলছে না। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল মন রেগা আইন বাতিল করে ভি ভি জি রাম জি আই নিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য চারটি শ্রম কোড এনেছে। অপরদিকে বিজ বিল এনে কৃষকদের ক্ষতি করছে। কর্পোরেটদের মুনাফা লোটার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। নয়া বিদ্যুৎ আইন নিয়ে দেশে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এর বিরুদ্ধে বামপন্থীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন এবং শূন্য পদ পূরণের প্রতিশ্রুতি গত আট বছরে পালন করেনি বলে দাবি করেন তিনি। তবে এদিন বিধানসভা পর্যন্ত না পৌঁছাতে পারলেও উত্তর গেট এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবাই বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, পবিত্র কর, বিজু কৃষ্ণান।

জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা কৃষি প্রধান রাজ্য। কৃষকের কৃষি একমাত্র উপার্জনের পথ। কিন্তু আজকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। কৃষকরা ঋণ ভাবে জর্জরিত। অথচ এবারের বিধানসভার বাজেটে মুখরোচক প্রতিশ্রুতি আর কথার ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নেই। আর ছিল মোদির বন্দনা।

মানুষের সংকট মোচনের কোন প্রতিফলন নেই এই বাজেটে। বিরোধী দলনেতা এবারের বাজেটকে জনবিরোধী এবং অন্তসার হীন বাজেট বলে আখ্যা দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *