আগরতলা: নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সিপিএম। সম্প্রতি আরজেডি এবং কংগ্রেস নেতাগণ যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। এদিকে জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার মান উন্নয়নে কাজ করছে রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিসিকে অতিরিক্ত ১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৬০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। .

আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২৫ তম “মন কি বাত” কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এদিন খোয়াই জেলার তুলাশিখর ব্লকের অধীন আশারামবাড়িতে স্থানীয় জনসাধারণ ও ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত কার্যক্রম শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কার্যক্রমে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রতি মাসের শেষ রবিবার প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত ত্রিপুরা সহ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গতবার এই ৩০ নম্বর বুথে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কার্যকর্তাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। তাদেরকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। তাদের বাড়িঘর, গাড়ি বাইক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এবং এই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে কয়েকজনকে জিবি হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এটা শুধু ত্রিপুরার আশারামবাড়ি বা খোয়াইতে নয়, সারা ভারতবর্ষের মধ্যে একটা কলঙ্কময় অধ্যায় হয়েছে। সেটা কোন অবস্থায় কাম্য ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠান কোন রাজনীতির বিষয় নয়, এটা সমস্ত ভারতবাসীর মন কি বাত, যা প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে মানুষ শুনতে পায়। দেশকে রক্ষার জন্য, দেশকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি যেভাবে কাজ করছেন, যেটা উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। আর এই কার্যক্রমের নামই হচ্ছে মন কি বাত। সারা পৃথিবীর মধ্যে এমন কোন রাষ্ট্র নেই যেখানে এনিয়ে চর্চা হচ্ছে না, যে কিভাবে মন কি বাত কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটা আত্মিক যোগাযোগ গড়ে তুলছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মুখ্যমন্ত্রী উনার বক্তব্যে বলেন, কাজের চাপের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় না। তাই তাদের সঙ্গে যাতে দূরত্ব না কমে তারজন্য এই মন কি বাত অনুষ্ঠান। পৃথিবীর কোন জায়গায় কোন রাষ্ট্রপ্রধান এমন কার্যক্রম করেন না। মন কি বাত কার্যক্রমে রাজনীতির কিছু নেই। আর এমন অনুষ্ঠানে আশারামবাড়ির ৩০ নম্বর বুথে কার্যকর্তাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। এধরণের সংস্কৃতি আগের সরকারগুলির সময় ছিল। কিন্তু আমরা এধরণের রাজনীতি থেকে বেরোতে চাই। এই রকম কার্যক্রমে সব ধরণের মানুষ আসতে পারেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এধরণের কলঙ্কময় অধ্যায় আমরা কখনো ভুলবো না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি যে পরবর্তী মন কি বাত কার্যক্রমে আশারামবাড়ির ৩০ নম্বর বুথে আমি আসবো এবং সব মানুষের সঙ্গে থাকবো ও যশস্বী প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত শুনবো।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। একটা বিশাল অংশের জাতি ও জনজাতি অংশের ভাইবোন এখানে সমবেত হয়েছেন। আমরা জাতি – জনজাতি সবাই ভাই ভাই। আমাদের মধ্যে কোনরকম বিভেদ নেই এবং সেটা থাকাও উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটু আগে বলেছেন এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত। আমরা বলছি এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত তখনই হবে যখন এক একটি রাজ্য শ্রেষ্ঠ হবে। আমরা এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরার কথা বলছি। আমাদের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ববোধ না থাকলে কিভাবে উন্নয়ন হবে? আজ প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া নিয়ে কথা বলেছেন। দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে প্রায় ২০টির মতো রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সরকার চলছে। মানুষ চাইছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সম্প্রতি বিহারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে নিয়ে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী নেতাগণ কটু কথা বলেছেন। এতে বিহারের পাশাপাশি ভারতের সংস্কৃতিকে আঘাত করা হয়েছে। মানুষ সেটা ভালোভাবে নেবে না। আমরা এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিবাদ করছি। ডাঃ সাহা বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের রাজ্যের ২০ বছরের মুখ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করছিলেন মন কি বাত অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাঁর মতামত জানাতে। তখন তিনি বলছিলেন এই মন কি বাত অনুষ্ঠান কে দেখে? তাই আমি উনাকে আহ্বান করছি যে আমাদের আরো একটি মন কি বাত অনুষ্ঠানে আপনি আসবেন। কিন্তু অনেকের চোখে ছানি পড়েছে। তাই উন্নয়ন দেখতে পারেন না বা কোথায় কি হচ্ছে জানতে পারেন না।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বর্তমান রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। আরেকটি টিম এখানে একটি হাসপাতাল স্থাপন করতে এসেছে। আমরা চোখের চিকিৎসার জন্য একটি পৃথক হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। রাজ্যে আইন -শৃঙ্খলা উন্নত হয়েছে, এবং কাজ করতে পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা মহারাজা বীর বিক্রমকে যথাযথ সম্মান দিয়েছি। আমরা জনজাতি অংশের মানুষকে গুণমান সম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্যও কাজ করছি। এই কার্যক্রমে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মন কি বাত এর ত্রিপুরা প্রদেশ ইনচার্জ রতন ঘোষ, বিজেপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা, এমডিসি ভুমিকানন্দ রিয়াং, জেলাশাসক রজত পন্ত, জেলা পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *