আগরতলা: ত্রিপুরার দূর্গম জনজাতি এলাকায় সৌর মাইক্রোগ্রিডের আলো নতুন আশা জাগাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে খোয়াই জেলার মুংগিয়াকামি আরডি ব্লকের কর্ণরাম পাড়ায়, যা আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ মোহনপুর মন্ডলের ৪৫ নং বুথে অভিচরণ এলাকার সাধারণ জনগণ ও দলীয় কার্যকর্তাদের সঙ্গে বসে দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাত’ কার্যক্রম শ্রবণ করার পর, বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “’পিএম সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনা’-এর সুবিধা উত্তর-পূর্ব অঞ্চলেও পৌঁছাচ্ছে। ত্রিপুরার অনেক রিয়াং জনজাতির গ্রাম আগে বিদ্যুতের সমস্যায় ভুগত। এখন সৌর মিনি-গ্রিডের মাধ্যমে তাদের বাড়ি আলোকিত হচ্ছে। শিশুদের সন্ধ্যার পরেও পড়াশোনা করতে সুবিধা হচ্ছে।

মানুষ তাদের মোবাইল চার্জ করতে পারছে, আর গ্রামের সামাজিক জীবনও পরিবর্তিত হয়েছে।”পরবর্তীতে, বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান, রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় ৩৪৭টি গ্রামে ১২,১০৩টি পরিবার সৌর মিনি-গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।মন্ত্রী জানান রাজ্যে বর্তমানে ৪৭ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় যা ট্রেডা এবং রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের এর মাধ্যমে।তিনি বলেন পিএম সূর্য ঘরের অধীনে ২,৭৫৩টি পরিবার সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ পেয়েছে। মোট ৭,৯৯১টি কৃষক পরিবার সৌর পাম্প পেয়েছে এবং ৪০,০০০ কানি জমি সেচ হয়েছে। পিএম ডিভাইন এর অধীনে ৯,৭২৫টি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে।

২৪৭টি এলাকায় এবং পিএম জনমন-এর অধীনে ৩০টি এলাকায় ১,৭০৩টি পরিবার উপকৃত হয়েছে। ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী সৌর আলো এবং পিএম সূর্য ঘরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন।মন্ত্রী আরও বলেন আজ ত্রিপুরার মানুষ শুধুমাত্র সূর্যের আলোতে আলোকিত হচ্ছে না, তাদের স্বপ্নও পরিবর্তিত হচ্ছে।তিনি শেষে বলেন আমার হৃদয় ভরে ওঠে কৃতজ্ঞতায় যখন দেশের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্যোগের কথা ‘মন কি বাত’-এ উল্লেখ করেছেন।

সৌর মাইক্রোগ্রিডের আলো আজ দূর্গম জনজাতি এলাকায় নতুন আশা দেখাচ্ছে। খোয়াই জেলার মুংগিয়াকামি আরডি ব্লকের কার্ণারাম পাড়ায় সেই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অন্ধকার থেকে আলো পর্যন্ত এই যাত্রা উন্নয়নের একটি অনন্য গল্প বলে। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ সংযোগ নয়; এটি আত্মনির্ভরতার নতুন সূচনা।

প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রেরণার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সূর্যের শক্তি দিয়ে ত্রিপুরা এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন ভবিষ্যতের দিকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *