আগরতলা : বুধবার রাজ্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র ছবিমুরায় চলমান উন্নয়নমূলক কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে এলেন ত্রিপুরা সরকারের পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই পর্যটন কেন্দ্রকে আগামী দিনে কীভাবে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত ও পর্যটকবান্ধব রূপে গড়ে তোলা যায়—সে বিষয়ে খুঁটিনাটি দিক পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে পর্যটন মন্ত্রী জানান, ছবিমুরা পর্যটন প্রকল্পের কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে এবং বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই ছবিমুরা পর্যটন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কর্মসূচিতে পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর প্রশান্ত নেগি, স্থানীয় বিধায়ক রঞ্জিত দাসসহ পর্যটন দপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা সকলে মিলিতভাবে চলমান কাজের অগ্রগতি, পর্যটকদের সুবিধা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে ত্রিপুরাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ, পর্যটকদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করাই সরকারের অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যটনের বিকাশের মাধ্যমে শুধু রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই তুলে ধরা নয়, পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নও সম্ভব। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এছাড়াও পর্যটন মন্ত্রী জানান, তিনি খুব শীঘ্রই মাতাবাড়ি একান্ন শক্তিপীঠের উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনে যাবেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মাতাবাড়িকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পর্যটনের হাত ধরে ত্রিপুরাকে নতুন পরিচয়ে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সরকারের সুদূরপ্রসারী যে উদ্যোগ, ছবিমুরা পর্যটন কেন্দ্র তারই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উন্নয়নের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ছবিমুরা রাজ্যের গর্বে পরিণত হবে—এমনটাই আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *