আগরতলা : ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫,৫২০ জন ইনজেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ ব্যবহারকারী ওপিওয়েড সাবস্টিটিউশন থেরাপি (ওএসটি) কেন্দ্র থেকে পরিষেবা গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে মোট ৬১২ জন চিকিৎসা সম্পন্ন করে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের মূলধারায় ফিরে এসেছেন।
আজ বিধানসভায় বিধায়ক গোপাল রায়ের উত্থাপিত রেফারেন্স পিরিয়ডে ড্রাগস সম্পর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ৯০ দশকের শেষ দিক থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে এইচআইভি এইডস বিষয়ক সরকারিভাবে কাজকর্ম শুরু হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে ইনজেক্টটিং ড্রাগ ইউজারদের নিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা শুরু হয়েছে রাজ্যে। সারা রাজ্যে ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির অধীনে টার্গেটেড ইন্টারভেনশন এনজিওগুলির মধ্যে নথিভুক্ত এমন প্রায় ১০,৫০০ জন ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে শিরাপথে মাদক গ্রহণ করেন। এই টার্গেটেড ইন্টারভেনশন এনজিওদের নিয়মিত কাউন্সিলিং-এর মাধ্যমে ইঞ্জেকটিং ড্রাগ ইউজারদের থেকে জানা গেছে, মূলত হেরোইন, ব্রাউন সুগার ইত্যাদি ড্রাগ ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে ব্যবহার হয় রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ এর এপ্রিল থেকে ২০২৫ এর জানুয়ারি পর্যন্ত ত্রিপুরা এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি রাজ্যে এইচআইভি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লড়াই করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এরমধ্যে রয়েছে – ত্রিপুরা এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির তথ্য শিক্ষা ও যোগাযোগ (আইইসি) উপাদানের অধীনে রাজ্যের ২২০টি স্কুলের সমস্ত অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক/ প্রধান শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে এইচআইভি/এইডস এর উপর জেলা পর্যায়ের সংবেদনশীলতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। যেখানে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতা চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডাঃ সাহা জানান, রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান তৈরির জন্য ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৩ মাস ধরে রাজ্যজুড়ে তীব্র তথ্য শিক্ষা ও যোগাযোগ অভিযান পরিচালিত হয়েছে (১৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬৮৯ জন, ৬৬৩টি গ্রাম, ৪০১টি স্কুল, ৩৬টি কলেজ এর আওতায় এসেছে, ১৪০টি লোকপরিবেশনা, নাটকের মাধ্যমে প্রচার অভিযানও করা হয়েছে)। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অধীন আগরতলা পুর পরিষদের কর্পোরেটর ও জেলা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকের অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে জনসচেতনতা তৈরির জন্য রাজ্যজুড়ে তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের অধীনে ২১টি এলইডি স্ক্রিনে এইচআইভি/এইডস এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকের অপব্যবহার সম্পর্কিত বার্তা প্রদর্শিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের যৌনসঙ্গী ও ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা গ্রহণকারী মানুষদের ইনজেকশন শেয়ারিং সঙ্গী, স্বামী/স্ত্রী, নিজের সন্তান এবং ভাইবোনদের পরীক্ষা করার জন্য একটি প্রচারণা চালানো হয়েছিল, যাতে লুকানো এইচআইভি পজিটিভ কেস সনাক্তকরণ সম্ভব হয়। এই প্রচারণার নাম ছিল ইনডেক্স টেস্টিং ক্যাম্পেইন এবং জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনএসিপি) প্রথম লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে করা হয়েছিল। যার লক্ষ্য ছিল ৯৫% এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের তাদের এইচআইভি অবস্থা জানা।এছাড়া সুই সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মাধ্যমে এইচআইভি/হেপাটাইটিস বি/হেপাটাইটিস সি-এর প্রকোপ কমাতে ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরাপথে মাদক ব্যবহারকারীদের মৌখিক প্রতিস্থাপন থেরাপি প্রদানের জন্য ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ধলাই এবং দক্ষিণ জেলায় তিনটি নতুন স্যাটেলাইট ওপিওয়েড সাবস্টিটিউশন থেরাপি (ওএসটি) কেন্দ্র কার্যকর করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম জেলায় মোট ১৮টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ শহুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ওপিওয়েড সাবস্টিটিউশন থেরাপি কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাব রাজ্যের বহির্বিভাগীয় ওপিওয়েড অ্যাসিস্টেড ট্রিটমেন্ট (ওএএটি) মডেল অনুসারে যাতে ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরাপথে মাদকাসক্তদের মৌখিক প্রতিস্থাপন এবং আসক্তিমুক্ত থেরাপি প্রদান করা যায়। সমস্ত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ক্ষতি হ্রাস’ এবং ওপিওয়েড বিকল্প থেরাপির অংশ হিসেবে নিরাপদ অনুশীলনের জন্য পণ্য পরিষেবা যেমন (কনডম, লুব্রিকেন্ট এবং ডিসপোজেবল সুই সিরিঞ্জ) ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কর্তৃক স্টাফ প্রদানকারী মোট ৭টি স্ট্যান্ড-অ্যালোন ওপিওড সাবস্টিটিউশন থেরাপি (ওএসটি) কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক স্টাফ সহায়তা প্রদানকারী ১৯টি স্যাটেলাইট ওপিওড সাবস্টিটিউশন থেরাপি কেন্দ্র এখন রাজ্যে কার্যকর রয়েছে, যা ইনজেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ ব্যবহারকারীদের জীবনের মূলধারায় আনতে বিকল্প থেরাপি প্রদান করে।