আগরতলা: গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে আধুনিক পরিকাঠামো প্রদান, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা ও সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে বিধায়ক পাঠান লাল জমাতিয়ার আনীত দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে আজ বিধানসভায় এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকার বর্তমানে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের আওতায় ৩০টি গ্রামীণ বিদ্যালয়ের ভবন এবং আনুষাঙ্গিক নির্মান কাজের জন্য মোট ২১৩ কোটি ৪ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২টি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ২৮টি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়াও একই প্রকল্পের আওতায় আরও ৩৩টি গ্রামীণ বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য ২৬১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। আরও উল্লেখ্য যে, এনইএসআইডিএস প্রকল্পের আওতায় রাজ্যজুড়ে ১৪টি গ্রামীণ বিদ্যালয়ে ১০০ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার নির্মাণ কাজ চলছে। স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স ক্যাপিটাল প্রকল্পের আওতায় ৬টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৩৩ কোটি ৮২ লক্ষ টাকার অনুমোদন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১টি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫টি বিদ্যালয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। অর্থাৎ রাজ্যজুড়ে বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘটে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট স্কিমে ৬২টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য মোট ১৫৯ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪৭টি বিদ্যালয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়াও সুবর্ণজয়ন্তী প্রকল্পের আওতায় একটি বিদ্যালয়ে ৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার নির্মাণ কাজ চলছে। এই উদ্যোগগুলির সম্মিলিত লক্ষ্য হল গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে আধুনিক পরিকাঠামো প্রদান, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ শিক্ষাকে শক্তিশালী করা। গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো সুদৃঢ়করনের জন্য অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রদের শৌচাগার, ছাত্রীদের শৌচাগার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের (সিডব্লিউএসএন) জন্য শৌচাগার, র্যাম্প ও হ্যান্ডরেল, আসবাবসহ গ্রন্থাগার কক্ষ, পানীয় জলের সুবিধা, কম্পিউটার কক্ষ, বিজ্ঞান ও জীববিদ্যা গবেষণাগার, পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম, ক্ষুদ্র/বৃহৎ মেরামত ইত্যাদির কাজ ব্যাপক ভাবে চলছে। যার জন্য এখনো পর্যন্ত ১৮৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আরো জানান, রাজ্য সরকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের হোস্টেল নির্মান করেছে। কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের অন্তর্গত ১৫টি হোস্টেল নির্মান করা হয়েছে। অনুরুপভাবে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আবাসীয় বিদ্যালয় হোস্টেল প্রকল্পে ১৬টি হোস্টেল নির্মান করা হযেছে। বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি পার্ট টাইম শিক্ষকদের দিয়ে হোস্টেলের মধ্যে স্কুল টাইমের বাইরে পড়ার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও পিএমজনমন এবং ধরতী আবা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান এই দুটি প্রকল্পে ৩৯টি হোস্টেল তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুনিয়াদী স্তরে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলিতে স্কুল ফার্নিচার প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়গুলিকে মেরামতির জন্য অর্থ প্রদান করা হয় এবং গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বেতন বর্হিভুত খাতে অর্থ প্রদান করা হয়। যার মাধ্যমে তারা ঐ সব এলাকার বিদ্যালয়গুলির মেরামতি, আসবাবপত্র ক্রয় করে। ২০২৪-২৫ ইং অর্থবছরেও মোট ৫০ লক্ষ টাকা বিদ্যালয় পরিদর্শককে দেওয়া হয়েছে স্কুলের ফার্নিচার ক্রয় করবার জন্যে। তাছাড়া এই অর্থ বছরে মোট ৫৩ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকাও বিদ্যালয় পরিদর্শকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলিকে মেরামতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে বেতন বর্হিভূত খাতে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়গুলির মেরামতি, আসবাবপত্র ক্রয় ইত্যাদি বাবদ খরচ করার জন্য।