আগরতলা:হাইকোর্টে সরকারের বড় ধাক্কা!পাঁচ বছরের স্থির বেতনের সরকারি চাকুরীর সিদ্ধান্ত খারিজ হল উচ্চ আদালতে।চাকুরীর প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতন ক্রম দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিল ত্রিপুরা উচ্চ আদালত।

উপকৃত হবেন টেট শিক্ষক সহ অন্যান্য স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা।এ কথা জানান রাজ্যের বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন বেঞ্চে দুটো রিট আপিল মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন জানান, এই রায়ের মূল কথা হলো,স্থায়ী পদে যারা নিয়মিত বেতন ক্রমে চাকুরী পাবেন, তাদেরকে চাকরির প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতন ক্রম দিতে হবে।

২০০১ সাল এবং ২০০৭ সাল থেকে ত্রিপুরায় একটা ব্যবস্থা চলে আসছিল স্থায়ী পদে নিয়মিত বেতন ক্রমে চাকরিতে নিয়োগ হয়েও পাঁচ বছর স্থির বেতনে থাকতে হতো। অর্থাৎ ওই পাঁচ বছর তারা নিয়মিত বেতন ক্রম পেতেন না। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে স্নাতক ও অস্নাতক ১৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকা উচ্চ আদালতে প্রথম দুটো রিট মামলা করেছিলেন। তৎকালীন বিচারপতি অরিন্দম লোধ এই মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন। কারণ তখন সরকার পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যেহেতু চাকুরী প্রাপকরা নিয়মিত বেতন ক্রমে নিযুক্ত হলেও তারা মুচলেখা দিয়েছিল যে পাঁচ বছর স্থির বেতনে চাকরি করবে। এর বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে রিট আপিল মামলা হয়েছিল। শীতকালীন বন্ধের সময়ে এই মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছে। এই রায় ঘোষণা করে বেঞ্চ বলেছে ২০০১ ও ২০০৭ সালে রাজ্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থায়ী পদে নিয়মিত বেতন ক্রমে নিযুক্তদের পাঁচ বছর নিয়মিত বেতন ক্রমে থেকে বঞ্চিত রাখার ব্যবস্থা করেছিল।পাঁচ বছর স্থির বেতনে রেখে এই সিদ্ধান্ত গুলি অসাংবিধানিক।এটা সংবিধানের মূল নীতির পরিপন্থী এবং চাকুরী প্রাপকদের কাছ থেকে সরকার মুচ লেখা আদায় করে নিচ্ছে। সেই মুচ লেখার ভিত্তিতে তাদেরকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে অর্জিত রাখা যায় না। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এই এই মামলায় উচ্চ আদালত মান্যতা দিয়েছে।এই রিট আপিল গুলিও মঞ্জুর করেছে। পাশাপাশি ডিভিশন বেঞ্চ আরো বলেছে, যারা আবেদন করেছেন,তাদেরকে চাকরির প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতন ক্রম দিতে হবে।

যেহেতু তারা অনেক পরে মামলা করেছেন, সেই কারণে প্রথমে তাদেরকে মোপেসনাল সিক্স মোশন দিতে হবে। নগদ টাকাটা স্থায়ী পদে বাবলা করার পূর্ববর্তী তিন বছর থেকে পাবেন চাকরি প্রাপকরা। সেই ক্ষেত্রে নয় শতাংশ সুদ সহ এই বকেয়া টাকা আগামী দুই মাসের মধ্যে দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে প্রত্যেক মামলা আবেদন কারীকে মামলার খরচ হিসেবে দুই হাজার টাকা করে দিতে হবে। এই রায়ের ফলে শুধুমাত্র আবেদনকারী শিক্ষকরাই উপকৃত হবেন না।

এই মামলার প্রভাব স্থায়ী পদে নিয়মিত বেতন ক্রমে যারা নিযুক্ত হয়েছিলেন তা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন তারা সবাই এই মামলার সুফল পাবেন বলে জানালেন আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন। এছাড়াও এই মামলায় আইনি লড়াই লড়েছেন আইনজীবী সমরজিৎ ভট্টাচার্য, কৌশিক নাথ, দীপ দত্ত চৌধুরী প্রমুখো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *