আগরতলা:আগরতলা শহরে ফের সাংবাদিকের উপর নৃশংস হামলার ঘটনা সামনে এলো।মঙ্গলবার রাত্র আনুমানিক এগারোটা নাগাদ বড়দোয়ালী সংলগ্ন এলাকায় দৈনিক সংবাদ এর সাংবাদিক মৃণাল কান্তি দেবনাথের উপর দুষ্কৃতিরা প্রাণ ঘাতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।এই ঘটনায় শহর জুড়ে সাংবাদিক দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাংবাদিক মৃণাল কান্তি দেবনাথের অভিযোগ অনুযায়ী, বড়দোয়ালী মিলন সংঘ এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর তার অটোর যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। এমন সময় পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে আগুন লাগে।তখন মৃণাল কান্তি দেবনাথ সেই আগুনের ছবি তুলছিল।এমন সময় পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব চার পাঁচ জন ব্যক্তি এসে তার কালার চেপে ধরে এবং তাকে মারধোর করতে শুরু করে।গুরুতর আহত অবস্থায় কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি মিলন সংঘের দিকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরবর্তী সময়ে তারা এ ডি নগর থানায় ফোন করেন।কিন্তু এডি নগর থানার ওসি কোনরকম সহায়তা করেনি বলে অভিযোগ।সাংবাদি কের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে বুধবার ঘটনাস্থলে হাজির হয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার সহ অন্যান্য সাংবাদিক গণ।তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুরো ঘটনার খোঁজখবর নেন।পাশাপাশি এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এ ডি নগর থানার ওসি ‘র ভূমিকা নিয়ে।তিনি দাবি জানান,অতিসত্বর দুষ্কুতিদের গ্রেফতার করতে হবে এবং দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ডি নগর থানার ওসিকে বদলির দাবিও তিনি জানিয়েছেন।তিনি জানান যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ডেপুটেশন দেওয়া হবে।পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে।গত ১৫ দিনের মধ্যে তিন জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে এখন সাংবাদিকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের উপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় আগরতলা শহরসহ গোটা রাজ্যের সাংবাদিক মহলের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
