আগরতলা।।দেশপ্রেমের ভাবনা আজকের দিনেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতাজীর আদর্শকে পাথেয় করে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যুবদের এগিয়ে আসতে হবে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে হবে যুবদের।

আজ আগরতলার নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতন মাঠে আয়োজিত নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ আমাদের জন্য একটা বিশেষ দিন। আজ এখানে অনেক ধরনের থিমের উপর ভিত্তি করে প্রোগ্রাম রাখা হয়েছে। আর সেগুলি যখন রাস্তায় পরিক্রমা করবে তখন সবাই উপভোগ করবেন। আর এর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। আমরা সবাই জানি আজকের দিনে অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি, ১৮৯৭ সালে উড়িষ্যার কটকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশুনা করেছিলেন তিনি। আর একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯১৯ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সমাপন করেছিলেন। তাঁর পিতা তাঁকে ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজে পাঠান ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের জন্য। সেখানে ৪র্থ হন তিনি। কিন্তু এই চাকরি গ্রহণ করেন নি তিনি। বরং দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতন স্থাপন হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। কিন্তু শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫১ থেকে। আমাদের কাছে স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তি নেতাকে আজ স্মরণ করার দিন। প্রতিটি ভারতবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। প্রত্যেক বাড়িতে তাঁর ছবি লাগানো থাকে। স্বাধীনতা সংগ্রামের এক চির স্মরণীয় ব্যক্তি এবং এক উজ্জ্বল ও মহান চরিত্র তিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে যার কথা মনে আসে তিনি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কেও অনেক কথা আছে। কিন্তু তবুও তিনি আমাদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের দুবার সভাপতি হয়েছিলেন। একবার ১৯৩৮ এ, আরেকবার ১৯৩৯ এ। কিন্তু সেখানে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয়। যে কারণে সেই সংগঠন ছেড়ে ফরোয়ার্ড ব্লক নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেন তিনি। কয়েকবারই তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও তাঁকে জেলের ভেতর আটকে রাখা যায়নি।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরে নেতাজীর মতাদর্শের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, জার্মানি, জাপান যান এবং যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু চেয়েছিলেন ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা এনে দেব’। আজকের তারিখেও নেতাজীর এই বিখ্যাত উক্তি সমান প্রাসঙ্গিক। আরেকটি বিখ্যাত উক্তি তিনি করেছিলেন যে – ‘দিল্লি চলো’। এই একটা কথার মাধ্যমে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এমন সব কথা বা শ্লোগান দেন যারজন্য আমরা উদ্বুদ্ধ হই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্র বসুকে বলেছিলেন ‘দেশনায়ক’।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, আজ আমরা দেশের সেনা থেকে শুরু করে প্রত্যেক সাধারণ মানুষ জয়হিন্দ বলে থাকি। আর সেটা যিনি প্রথমে উচ্চারণ করেছিলেন তিনি আর কেউ নন – নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজীর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশাত্মবোধক চিন্তাভাবনা নিয়ে দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে হবে যুবদের। কোন অন্যায় দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন স্বাধীনতা কেউ দেয় না, এটা অর্জন করতে হয়। আর নেতাজীকে সত্যিকারের সম্মান দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা এরআগে কোন নেতা বা সরকার দেয়নি। ২০২২ সালে দিল্লির ইন্ডিয়া গেইটের সামনে মোদির নেতৃত্বে ২৮ ফুট উঁচু নেতাজীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। আজকের দিনে সমস্ত ভারতবর্ষে পরাক্রম দিবস হিসেবে পালন করা হয়। নেতাজীর চিন্তাভাবনা ও দেশপ্রেমের ভাবনা আজকের দিনেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতাজীর আদর্শকে পাথেয় করে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যুবদের এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, নেতাজী স্কুলের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সম্পাদক ডাঃ দিলীপ কুমার দাস, ম্যানেজমেন্ট কমিটির সহ সভাপতি তপন চক্রবর্তী, আগরতলা পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, স্কুলের সহ প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মজুমদার, সমাজসেবী সঞ্জয় সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নেতাজী স্কুল চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *