আগরতলা : জনজাতি অংশের মানুষের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি ব্রহ্মকুন্ড মেলার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও এর উন্নয়নে বাজেটে ১৪ কোটি টাকার সংস্থান রেখেছে রাজ্য সরকার।

শুক্রবার বিকেলে মোহনপুর মহকুমার সিমনায় ৩দিন ব্যাপী ব্রহ্মকুন্ড মেলার উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এখানে আসার পর অনেক বিষয়ে জানতে পারলাম। বিশেষ করে ব্রহ্মকুন্ড মেলার ইতিহাস সম্পর্কে। আর এই মেলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে বছরে দুবার মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবার বসন্ত কালে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মেলাকে ঘিরে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও অস্থি বিসর্জনের মতো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও এখানে সম্পন্ন হয়। আগে বাংলাদেশ থেকেও এই মেলায় লোকজন আসতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখন সেখান থেকে লোক আসতে পারেন না। তবে এরপরও আজ এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছে। তিনদিন ধরে চলবে এই মেলা। রাস পূর্ণিমা ও অশোকাষ্টমী উপলক্ষে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেলাকে ঘিরে আমরা মানুষের মধ্যে মিশ্র সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখতে পাই। আমরা বলছি ত্রিপুরা রাজ্যকে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা হিসেবে গড়ে তুলবো। আর এই ঝলক এখানে এসে দেখতে পেয়েছি। বিশেষ করে মা বোনদের ব্যাপক উপস্থিতি এখানে প্রত্যক্ষ হয়েছে। এভাবে আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষ্টি সংস্কৃতি অনেক বেশি পরিপুষ্ট হয়। এই আনন্দের মুহূর্তগুলি নিয়েই আমরা বেঁচে থাকতে চাই। আমাদের সরকারও চেষ্টা করছে জনজাতি অংশের মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতি অটুট রাখার। আমাদের রাজ্যে ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের কৃষ্টি সংস্কৃতি অনেক বেশি উন্নত মানের। সেটা যাতে হারিয়ে না যায় তারজন্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর প্রয়াস জারি রেখেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেলা মানেই মেলবন্ধনের একটা প্ল্যাটফর্ম। এই মেলাকে ঘিরে সরকারিভাবে স্টল দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এসব মেলার আয়োজনের মাধ্যমে উৎকৃষ্ট মানের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। ত্রিপুরা সরকার বইমেলা, শিল্প মেলা, সরস মেলা, খারচি মেলা, দেওয়ালি মেলা, বাণিজ্য মেলা, নীরমহল পর্যটন উৎসব সহ ইত্যাদি মেলার আয়োজন করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে মানুষ এসবের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। আজ এই মেলায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত। ডাঃ সাহা বলেন, ব্রহ্মকুন্ড এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। আমরা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমাদের বাজেট বৃদ্ধি করেছি। যাতে আরও বেশি মানুষ এখানে আসেন এবং বিনিয়োগ করেন। যা সামগ্রিক অগ্রগতির দিকে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের সরকার জনগণের সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন, আমরা একই দিশায় কাজ করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিত শীল, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *