আগরতলা:একাধিক বিষয়ে সরব হলো মজদুর মনিটরিং সেল।আশা কর্মী ও ফ্যাসিলিটিটেরস এবং পাম্প অপারেটরদের সমস্যার সমাধানের দাবি। রাজ্য বাজেট অধিবেশনে সমস্যা সমাধানের আবেদন এই দুই সংগঠনের। মজদুর মনিটরিং সেল অনুমোদিত অল ত্রিপুরা আশা ফ্যাসিলিটিটেরস ও আশা কর্মী অ্যাসোসিয়েশন এবং ত্রিপুরা ও নিয়মিত ডিডাব্লিউএস ফার্ম অপারেটর সংঘের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন মজদুর মনিটরিং সেলের সভাপতি বিপ্লব কর সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। আগামী ১৩ ই মার্চ পবিত্র বিধানসভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার সঙ্গে এ বছরের বাজেট পেশ করা হবে। এই বিধানসভা কে সামনে রেখে দুই সংগঠন তাদের ১০ দফা দাবি সনদ সরকার ও রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেন। বর্তমানে দুই সংগঠনের কর্মীদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। তাদের রাজ্য দাবি গুলি সরকারের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এই দুটি সংগঠনের দশটি দাবি অফিশিয়ালি মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট পাঠানো হয়েছে। দুটি সংগঠনের কর্মীরা যেন প্রতি মাসে তাদের প্রাপ্য অনারিয়াম পেতে পারেন তার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন করেছেন বিপ্লব কর। তিনি বলেন আশা কর্মীরা সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত স্বাস্থ্যপরিসেবা পৌঁছে দেয়। জলের অপর নাম জীবন। মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য জল সরবরাহ করে থাকেন পাম্প অপারেটরগণ। এই দুটি সংগঠনে রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। ২০০৭ সালে রাজ্যে আশা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এরপর প্রায় চার মাস কোন পারিশ্রমিক ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা মাথায় নিয়ে তারা কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের আগে আশা কর্মীরা পেতে ৪০০ টাকা।
বিজেপির নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্র বাদী সরকার প্রতিষ্ঠার পর ১৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে এক হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা মাসিক অনারিয়াম পাচ্ছে ২১০০ টাকা। আশা কর্মীদের এন্ড এইচ এম এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ তারা যেভাবে কাজ করছেন তাদের কাজ সুরক্ষিত নয়। অবিলম্বে পার ভিজিট ৫০০ টাকা করা, এবং ন্যূনতম মাসে ৫০০০ টাকা অনারিয়াম দিতে হবে। তিনি জানান আসামের বিজেপি সরকার আশা কর্মীদের চার হাজার টাকা করে অনারিয়াম দিচ্ছে। অধরাও তিনি আশা কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মত মাসে ৬ মাস করার কথা জানান।তার সঙ্গে পাম্প অপারেটরদের মজুরি বৃদ্ধি সহ নানা দাবি তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেট অধিবেশন কে ঘিরে শ্রমজীবী সংগঠনগুলি এই দাবি রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয় সরকার এই দাবি গুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
