আগরতলা: আমাদের সবাইকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, মানুষের সেবা, প্রকৃত শিক্ষা, দেশ প্রেম নিয়ে চলার মধ্যেই যুব দিবসের মাহাত্ম্য। একটি শক্তিশালী জাতিই পারে একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তুলতে। স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যুব সমাজের আত্মবিশ্বাস এবং অবদান দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আজকের যুব সমাজ দেশের এবং রাজ্যের ভবিষ্যতের অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।

আজ আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক জাতীয় যুব উৎসবের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় যুব দিবস পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যুব সমাজের মধ্যে রাষ্ট্রচেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং স্বামীজীর আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন জাগরণের অগ্রদূত, চিন্তানায়ক ও যুগনায়ক। বর্তমান সময়েও স্বামীজীর চিন্তা, ভাবনা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। স্বামীজীর ভাবধারা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যৌবনকাল হচ্ছে মানুষের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়েই নিজের অন্তর্নিহিত প্রতিভা ও শক্তির বিকাশ ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত যুবাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিদিনের কর্মসূচির মধ্যে স্বামীজীর আদর্শকে নিয়ে চলার মধ্যেই যুব দিবসের সার্থকতা। তাই স্বামীজীর আদর্শকে আমাদের অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজেদের মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, যুবশক্তির সঠিক দিশা দেওয়ার মধ্য দিয়েই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়। যুব সমাজ হচ্ছে দেশের মূল শক্তি এবং এই শক্তির সর্ববৃহৎ ভান্ডার হচ্ছে আমাদের দেশ ভারতবর্ষ। মুখ্যমন্ত্রী স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন ‘মানুষের সেবা করার মধ্যেই রয়েছে ঈশ্বর সেবা’। তাই যুব সমাজকে শুধু শিক্ষায় শিক্ষিত হলে চলবে না মানুষের সেবায়, দেশের সেবায়, সমাজ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। তবেই আসবে মানব জীবনের সার্থকতা। আমাদের সবাইকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, মানুষের সেবা, প্রকৃত শিক্ষা, দেশ প্রেম নিয়ে চলার মধ্যেই যুব দিবসের মাহাত্ম্য।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের যুবশক্তির বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে প্রযুক্তি, ডিজিটাল, উদ্ভাবনী, স্টার্টআপ, ক্রীড়া ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুব সমাজকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকারও যুব সমাজকে আত্মনির্ভর করে তুলতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্টার্টআপ সহায়তা, যুব উদ্যোক্তা প্রকল্প, ক্রীড়া, শিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে ত্রিপুরা আজ সমস্ত ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী যুব সমাজের উদ্দেশ্যে স্বামীজীর জীবনের বিভিন্ন দিকের উপর আলোকপাত করে বলেন, স্বামীজি চেয়েছিলেন দেশে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী যুব সমাজ গড়ে উঠুক। এরজন্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং কর্মঠ হতে হবে। তবেই আমরা ২০৪৭ এর বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য সুদৃঢ় করে তুলতে পারবো। তিনি ১৬৩তম জাতীয় যুব দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী, অধিকর্তা এল. ডার্লং, মাই ভারত রাজ্য অধিকর্তা বিমল কুমার সাহা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ স্বামীজীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত এন.এস.এস. ও স্কাউটস অ্যান্ড গাইডসের স্বেচ্ছাসেবকদের, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য টেলেন্ট সার্চ ও মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে পদকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের এবং নেশামুক্ত অভিযান সচেতনতা কর্মসূচিতে বিশেষ অবদান রাখা বিভিন্ন ক্লাবকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ তাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *