ক্রীড়া প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: ঘরের মাঠে রূপকথা! মোতেরার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এক লক্ষেরও বেশি মানুষের গর্জনের সামনে ইতিহাস লিখল টিম ইন্ডিয়া।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হলো ভারত। একইসঙ্গে প্রথম দেশ হিসেবে টানা দু’বার (২০২৪ ও ২০২৬) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়ল সূর্যকুমার যাদবের দল। ​ব্যাটিং তাণ্ডব।স্যামসন-অভিষেকের ব্যাটে রেকর্ড স্কোর। ​টস জিতে নিউজিল্যান্ড ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠালে শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দেন দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন।

পাওয়ার-প্লে-তেই ওঠে রেকর্ড ৯২ রান। অভিষেক শর্মা মাত্র ২১ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও সঞ্জু স্যামসন নিজের সেরা ফর্ম ধরে রাখেন। ৮টি ছক্কা ও ৫টি চারের সাহায্যে ৪৬ বলে ৮৯ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন তিনি। মিডল অর্ডারে ঈশান কিষান (৫৪) এবং শেষদিকে শিবম দুবের (৮ বলে ২৬*) ঝোড়ো ব্যাটিং ভারতকে পৌঁছে দেয় ২৫৫ রানের পাহাড়ে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর। ​বুমরাহ-অক্ষরের স্পেলে চুরমার কিউয়ি দুর্গ

২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। জসপ্রীত বুমরাহ আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের সেরা; মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিলেন ৪টি উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অক্ষর প্যাটেল (৩টি উইকেট)। কিউয়িদের পক্ষে একমাত্র টিম সাইফার্ট (৫২) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বাকিরা ছিলেন ব্যর্থ। ১৯ ওভারে মাত্র ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।

নতুন যুগের সূচনা রোহিত-বিরাটের অবসরের পর এই তরুণ দল যেভাবে বিশ্বজয় করল, তা ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব যোগ দিলেন কপিল দেব, ধোনি এবং রোহিত শর্মার মতো কিংবদন্তিদের সারিতে। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জু স্যামসন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
​ভারত: ২৫৫/৫ (২০ ওভার) – স্যামসন ৮৯, কিষান ৫৪, অভিষেক ৫২।
​নিউজিল্যান্ড: ১৫৯/১০ (১৯ ওভার) – সাইফার্ট ৫২, বুমরাহ ৪/১৫, অক্ষর ৩/২৭।
​ফল: ভারত ৯৬ রানে জয়ী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *