আগরতলা।। ক্রীড়া ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। এই সকল সুযোগ সুবিধা নিতে হবে খেলোয়াড়দের। সেই সঙ্গে পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে আরো যুক্ত হতে হবে ছেলে-মেয়েদের।
আজ আগরতলার বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেব স্টেট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক জাতীয় ক্রীড়া দিবস – ২০২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা: মানিক সাহা।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, হকির জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মদিন ২৯ আগস্টকে আমরা জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে উদযাপন করি। একজন হকি প্লেয়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন তিনি। ক্রীড়া ক্ষেত্রে ধ্যানচাঁদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার জাতীয় ক্রীড়া দিবস তাঁর জন্মদিনে করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই লক্ষ্যে রাজ্যেও যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালন করা হচ্ছে। চেষ্টার মাধ্যমে মানুষ কোন জায়গায় পৌঁছতে পারে এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ মেজর ধ্যানচাঁদ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় মেধার কোন অভাব নেই। ত্রিপুরার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ইভেন্টে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নাম করছে। জিমন্যাস্টিক্স, অ্যাথলেটিক্স, সুইমিং সহ ক্রীড়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো ফল করছে রাজ্যের ছেলেমেয়েরা। তাই আমরা চাই তারা যাতে আরো ভালো খেলে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নে সরকার পরিকাঠামো করে দিচ্ছে। এর সুযোগ নিতে হবে তাদের। বিশেষ করে গুরুত্বের সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে হবে। যে যত বেশি প্র্যাকটিস করবে সে তত ভালো ফল করবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তবেই ভবিষ্যতে একজন ভালো ও সফল ক্রীড়াবিদ হওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, আগে ক্রীড়াবিদদের তেমন একটা সম্মান দেওয়া হতো না। কিন্তু ২০১৮ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর খেলোয়াড়দের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে যেমন – মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্প ও মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, খেলাধুলার মধ্যেও নিজেদের প্রতিভাকে তুলে ধরতে হবে ছেলেমেয়েদের। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা কোচদেরও নিজেদের আপডেট রাখতে হবে। কোচিংয়ের নতুনত্ব সম্পর্কে নিয়মিত শিক্ষা দিতে হবে। কোন খেলোয়াড় ভালো ফলাফল করলে তা কোচদের জন্যও সন্মানজনক। ডাঃ সাহা বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্লেয়ারদের শৃঙ্খলা বোধ থাকতে হবে। প্রলোভনে পড়ে বিপরীতমুখী যাওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে হবে। মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি খেলায় মনসংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে খেলোয়াড়দের। আর তাদের চাকরি ক্ষেত্রে মাঠের কৃতিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার। মাঠে খেলোয়াড়দের কৃতিত্বের উপর ভিত্তি করে তাদের চাকরি প্রদানের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, পশ্চিম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিত শীল, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব সুকান্ত ঘোষ, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, অধিকর্তা এল ডার্লং, পদ্মশ্রী জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।