আগরতলা:দেশব্যাপী ধর্মঘট আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলোর যৌথ মঞ্চ এবং অন্যান্য কর্মচারী ও কৃষক সংগঠনগুলোর ডাকে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে।ধর্মঘটের মূল কারণ শ্রম কোড বাতিল করা।
পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি এবং ২৬ হাজার টাকার নূন্যতম বার্ষিক বেতনের মত দাবিও করা হয়েছে।রাজ্য এ ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করার প্রয়াসে বাম পন্থীদের প্রচার জারি আছে।বেশ কয়েকদিন ধরেই মিছিল,সভা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার জারি রেখেছেন নেতৃত্ব। তারই অংশ হিসেবে আগরতলা শহরে সিআইটিইউর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলি বন্ধের পক্ষে প্রচারে নেমে পড়েছে।
দেশব্যাপী ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে বুধবার আগরতলা শহরের বিভিন্ন দিকে ফ্ল্যাগ ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচারাভিযান সংগঠিত করে ত্রিপুরা অটো রিক্সা ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন,মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, ত্রিপুরা ই রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন ও টি আর টি সি কর্মী ইউনিয়ন। এই চারটি সংগঠনের কর্মীরা মিলে সারা রাজ্যে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে এদিন আগরতলা শহরে বন্ধের সমর্থনে ব্যাপক প্রচার সংঘটিত করে। এই বিষয়ে সংবাদপত্রের মুখোমুখি হয়ে সি আই টি ইউর অন্যতম নেতৃত্ব অমল চক্রবর্তী বলেন,১২ ই ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটকে সমর্থন করেছে দেশের কৃষক সমাজ, ছাত্র যুব, দাড়ি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক অংশের মানুষ।
আজ দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার বিজেপি সরকারের হাতে লুন্ঠিত। স্বাধীনতার পর শ্রমজীবী মানুষ তাদের অর্জিত অধিকার অর্জন করেছিল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শ্রমিকদের শ্রম আইন বাতিল করে দিয়ে চারটি শ্রম কোডের মধ্য দিয়ে দেশের শ্রমিক শ্রেণীর উপর ভয়ানক আঘাত এনেছে। ইতিমধ্যেই শ্রম কোড লাগু করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে বলতো সি আই টি ইউ সহ বর্ণাঢ্য স্থপতি মানুষের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারি এই ধর্মঘট সংঘটিত হবে। তিনি পরিবহন শ্রমিকদের কাছে আহ্বান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই ধর্মঘট সফল করার জন্য। সব শ্রমিক যেন রাস্তায় নেমে বন্ধের পক্ষে ভূমিকা গ্রহণ করে। ধর্মঘটে হয়তো একদিন রুটি-রুজি বন্ধ হবে।কিন্তু আগামী দিনে বেঁচে থাকার জন্য শ্রম কোড যদি বাতিল করা না হয়, তাহলে শ্রমিকরা স্বাধীনতার পর যে অধিকারগুলো অর্জন করেছিল,সেই অধিকার গুলো আর ফিরে পাবে না।
তাই শ্রমিকদের সম্মান, অধিকার, মর্যাদার প্রশ্নে এই ধর্মঘট। এদিন ধর্মঘটের সমর্থনে গোটা শহর জুড়ে ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়। তিনি আরো বলেন, শ্রম কোড প্রত্যাহারের দাবিতে এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা জানিয়ে পরিবহন ও শ্রমিকরা এই ধর্মঘটে শামিল হোন।
