আগরতলা:বিজেপির টিফিন বৈঠক চলছে। ধারাবাহিকভাবে চলা এই টিফিন বৈঠক ঘিরে ব্যাপক ছাড়াও মিলছে। সবার কাছেই হৃদয় স্পর্শী হয়ে উঠেছে এ আয়োজন। রাজনীতির প্রেক্ষিতে আলোচনা বা সম্পর্ককে আরো নিবিড় করার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন একের পর এক বিধানসভায় চলছে।
নেতৃত্বের বক্তব্য অনুসারে টিফিন বৈঠক বা টিফিন বিরতির উপকারিতা হল এটি কর্মীদের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ বাড়ায়, মানসিক চাপ কমায়, নতুন আইডিয়া তৈরিতে সাহায্য করে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। সদর শহর জেলার কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাধার ঘাট বিধানসভার চারিপাড়া এলাকায় টিফিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়িকা মিনা রানী সরকার, মন্ডল সভাপতি, সদর শহর জেলা নেতৃত্ব সহ বিজেপির অন্যান্য কার্যকর্তাগণ। এছাড়াও এদিন রামনগর বিধানসভার চান্দিনা মুড়ায় টিফিন বইটা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা মেয়র দীপক মজুমদার, মন্ডল সভাপতি অমিতাভ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
প্রতিটি কার্যকর্তা তার নিজের হাতে টিফিন নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত হন এবং উপস্থিত সকলেই সেই টিফিনগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। বিজেপির টিফিন বৈঠক চলবে আগামী দিনেও, জানার নেতৃত্ব। চা পে চর্চার মতোই টিফিন বৈঠক এক আলোড়ন তৈরি করেছে। এই সময়ে বিজেপির টিফিন বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আবার তাৎপর্যপূর্ণও বটে। এই বৈঠক দলের নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি অভিনব উদ্যোগ।
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তরিক সংযোগ স্থাপন। এই বইটাকে দলের কর্মীরা নিজেদের ঘর থেকে খাবার বা টিফিন নিয়ে আসেন এবং সবাই একসাথে বসে খান। এর মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারিবারিক বন্ধন তৈরি হয়। যা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে মজবুত করবে এটা নিশ্চিত। এমনকি জনগণের সমস্যা শোনারও একটা মাধ্যম। রাজনৈতিক মহলে চর্চা, খাবারের পাশাপাশি বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়। মূলত টিফিন বৈঠক হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয় চা পে চর্চা – র মতই একটি পদ্ধতি। যার লক্ষ্য হলো নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং মাটির কাছাকাছি থাকা।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দলের সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন মাসে অন্তত একবার তাদের নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে এই ধরনের বৈঠক করেন। এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সমস্যা ও অভিযোগ গুলি বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা।সরকারের কাজের প্রচারও সম্ভব। এই বৈঠকগুলো দলের জনসম্পর্ক অভিযানের একটি অংশ। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং গত কয়েক বছরে সরকারের সাফল্য গুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
চলতি বছরেই পৌর নিগমের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে কোন নির্বাচনের আগে দলের বুথ স্তরের কর্মীদের সক্রিয় করতে এবং তাদের মধ্যে উৎসাহ বাড়াতে এই বৈঠক গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংগঠনিক আলোচনার ভিত্তিতে বৈঠক রাজনৈতিক রূপ নিলেও নেতৃত্বে দাবি এই বৈঠক ব্যতিক্রমী।
