আগরতলা: মন কি বাত কার্যক্রমে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে ত্রিপুরা। আজকের কার্যক্রমে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ভাংমুনে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার বিষয় উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। এর পাশাপাশি আগামী কিছুদিনের মধ্যে জল জীবন মিশনে

১০০% সাফল্য অর্জন করবে ত্রিপুরা। আজ যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩২ তম পর্ব শ্রবণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। আগরতলা সংলগ্ন বড়জলায় এই কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়ে বড়জলার ২২ নং বুথে কিষাণ মোর্চার পক্ষ থেকে আয়োজিত কার্যক্রমে যোগদান করি। আজ মন কি বাত কার্যক্রমে দুটি ক্ষেত্রে লাভবান হই আমরা। আজ জম্পুই হিলের ভাঙমুনে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে যেভাবে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেবিষয়টি উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা আমাদের জন্য খুবই গর্বের বিষয়। যেখানে আগে পানীয় জলের জন্য প্রচন্ড অসুবিধা হতো সেখানকার মানুষের। দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রীর নামে মুফত বিজলি যোজনা। এই যোজনায় গ্রামে গ্রামে বিশেষ করে রিয়াং শরণার্থীরা লাভবান হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিদ্যুতের কারণে এখন ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করতে পারছে, কৃষি ক্ষেত্রে উপকার হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মন কি বাত কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে চিঠি পাঠানো হয়। যেসব বিষয় আমরা জানি না। আর এই বিষয়গুলি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে সারা দেশ জেনে যায়। স্বাস্থ্য সচেতন থাকা, যুবদের বিষয়েও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যেমন খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে তেল কম খাওয়া, সবসময় ব্যায়াম করা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। ফিশারি, কৃষি, ক্রীড়া সহ প্রত্যেক বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এসব বিষয় থেকে আমাদের অনুপ্রেরণা আসে। আজ ত্রিপুরা সম্পর্কে দুটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ এ বিকশিত ভারত গড়ে তোলার যে আহ্বান রেখেছেন আমরাও বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা কাজ করছি। এই লক্ষ্যে আজ আমি বড়জলায় এসেছি। আমি এই কার্যক্রমে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ত্রিপুরা সারা দেশের মধ্যে ছোট রাজ্য হলেও মন কি বাত কার্যক্রমে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খুবই সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি ইত্যাদি নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ইরান, ইজরায়েল, আমেরিকার সঙ্গেও কূটনৈতিক দিক থেকে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি। একইভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলির সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বের কাছে নিরাপদে রয়েছি। কোভিডের মতো পরিস্থিতিকে আমরা যেভাবে মোকাবিলা করেছি সেভাবে এবারও মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যে জল জীবন মিশনের সফল বাস্তবায়ন নিয়েও এদিন কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে যখন আমাদের সরকার আসে, তখন মাত্র ৩% ছিল। সেই জায়গায় এখন জল জীবন মিশনে প্রায় ৮৫/৮৬% সাফল্য এসেছে। বহু জায়গায় জলের প্রয়োজনীয় উৎস না থাকায় উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে জল জীবন মিশনে ১০০% সাফল্য অর্জিত হবে।

এদিন এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যানী সাহা রায়, মন কি বাত ত্রিপুরা প্রদেশের ইনচার্জ রতন ঘোষ, প্রাক্তন বিধায়ক ডাঃ দিলীপ দাস সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব ও কার্যকর্তাগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *