আগরতলা: জনসমর্থন হারিয়ে হতাশা থেকেই এখন হিংসার রাস্তা বেছে নিয়েছে মথা। থানসা থানসা বলে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। মন্ত্রিসভায় আমাদের সাথে থেকেও বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে তারা। কিন্তু মানুষ এখন সবকিছু বুঝে গেছেন। আর ভারতীয় জনতা পার্টি জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আসন্ন এডিসি নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির জয় সুনিশ্চিত হবে।
আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ২৬ বীরচন্দ্রনগর – কলসী নির্বাচনী কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী সঞ্জীব রিয়াংয়ের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, তিপ্রা মথার জনসমর্থন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই হতাশা থেকে তারা মারপিট এবং অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করছে। অথচ তারা একদিকে বলছে আমরা শান্তি চাই। কিন্তু আবার অন্যদিকে অশান্তি সৃষ্টি করছে। কথার সাথে তাদের কাজের কোন মিল দেখা যায় না। তাই তাদের মিথ্যাচার এখন মানুষ বুঝে গেছেন। আর আমরা চাই ত্রিপুরায় একটা স্বস্তির পরিবেশ বজায় থাকুক। কিন্তু কিছু লোক চায় অশান্তির মাধ্যমে সরকারে থাকতে। আমি বারবার বলছি জনজাতিদের উন্নয়ন না হলে ত্রিপুরারও উন্নয়ন হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলছেন উত্তর পূর্বাঞ্চল (অষ্টলক্ষ্মী) এর উন্নয়ন না হলে আমাদের দেশেরও উন্নয়ন হবে না। কারণ এই অঞ্চলের জিডিপি ভারতবর্ষের উন্নয়নের একটা অংশ হবে। ইউপিএ সরকারের সময়ে উত্তর পূর্বাঞ্চল অবহেলিত ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মথা ও আইপিএফটির সঙ্গে আমরা জোট করেছি। কিন্তু কি করছে তারা? বারবার আমাদের কার্যকর্তাদের উপর আঘাত করছে, মারধোর করছে, তাদের বাড়িঘর আক্রমণ করছে, অগ্নিসংযোগ করছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই কাজ করছে তারা। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তাদের ব্ল্যাকমেইল আর মেনে নেব না। কারণ আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। যদিও তারা সামনে এক কথা বলে, আর পেছনে গিয়ে আরেক কথা বলে। কিন্তু আমরা চাই ত্রিপুরায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত থাকুক। আগে আমরা খুন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এর মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। আর ২০১৮ সালে আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ত্রিপুরায় শান্তি ফিরেছে। আজ সারা ভারতবর্ষের মধ্যে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। এখন এখানে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। জাতি জনজাতি মণিপুরী সংখ্যালঘু সকল অংশের মানুষকে নিয়ে আমরা চলতে চাই।
সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, থানসা থানসা বলে নিজের আখের গোছানোর লক্ষ্যে ইচ্ছে করে এধরণের কথা বলে মথা নামধারী কিছু ব্যক্তি এধরণের কাজ করছে। আজকেও কমলপুরে আক্রমণ করেছে। কিন্তু আমরা আক্রমনে বিশ্বাস করি না। আইনের মাধ্যমে এর উত্তর আমরা দেবো। আইন আমাদের সাথে রয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি গুণ্ডামিতে বিশ্বাস করে না। ভারতীয় জনতা পার্টি চায় একটা শান্তির পরিবেশ। অথচ তারা বারবার আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। আমাদের সঙ্গে কথা না বলে আগেই আইপিএফটি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যে কারণে আমাদের সভাপতি তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তারা অর্ধেক আসন দাবি করে বসে। আমরা জোট ধর্ম পালন করি। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তীতে মথা মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়। তারপরও আমাদের সাথে থেকে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে তারা। বিধানসভায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তবুও আমরা তাদের সহ্য করেছি। সভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এডিসি এলাকার উন্নয়নে রাজ্য সরকার প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সেই অর্থে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। তারা চাইছে আগামী দিনেও যাতে এসব লুটপাট কায়েম রাখা যায়। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির মতো সর্ববৃহৎ পার্টি এসব অনিয়মে কখনো মান্যতা দেয় না। তাই এডিসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠিত হলে এসব অনিয়মের হিসেব নিকেশ নেওয়া হবে। মারপিট, চাপের রাজনীতি, গুন্ডামি এই সরকার কখনো বরদাস্ত করবে না।
ডাঃ সাহা বলেন, এডিসির উন্নয়নে এত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও কোন জায়গায় উন্নয়ন নেই। আর আজকাল কিছু কিছু অফিসার অবসরের পর রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সরকার হলে সবকিছুর হিসাব নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনেকে নমিনেশন পেয়ে বড় বড় কথা বলছেন। আর আমি জানি যে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে যখন তাদের সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তখন তারা কি কি করেছেন। সেসব খবর রয়েছে।
,এদিন এই নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, দক্ষিণ জেলার বিজেপি সভাপতি দীপায়ন চৌধুরী, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, শান্তিরবাজার মন্ডল সভাপতি দেবাশিস ভৌমিক, জোলাইবাড়ির মন্ডল সভাপতি সুজিত দত্ত সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
