আগরতলা: কিছু আঞ্চলিক দল তিপ্রাল্যান্ড, থানসা ইত্যাদি স্লোগান তুলছে, কিন্তু বাস্তবে এসব সম্ভব নয়। তারা শুধু জনজাতি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। একমাত্র বিজেপিই জনজাতি এলাকার প্রকৃত উন্নয়নে কাজ করছে।
আজ বোধজংনগর-ওয়াকিনগর কেন্দ্রের বীরমোহনবাড়িতে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী রনবীর দেববর্মার সমর্থনে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
আজ মন্ত্রী রতন লাল নাথ এর উপস্থিতিতে ৯০ পরিবারের ২৭৩ জন ভোটার তিপ্রা মথা দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে দলে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বোধজংনগর-ওয়াকিনগর কেন্দ্রের অন্তর্গত খাস নোয়াগাও এলাকায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত উঠান সভায় ১৮ পরিবারের ৬৫ জন ভোটার সিপিআইএম তিপ্রা মথা দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে দলে যোগদান করেন।
তিনি ঐদিন দক্ষিণ আর সি নগর এ ও একটি নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মানুষকে বিনামূল্যে চাল দেওয়া হচ্ছে। তিপ্রামথা বা সিপিআইএম কেউই আগে এই সুবিধা দেয়নি। ৬,০০০ পরিবারের মধ্যে প্রায় ৪,০০০ পরিবার ইতিমধ্যে বিনামূল্যে চাল পাচ্ছে এই গ্রামে । সরকারি কর্মচারী ছাড়া আমরা সকলকেই এই সুবিধা দেব। ১০০% জল সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ৫০০ জন সামাজিক ভাতা পেতেন, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ২,০০০ হয়েছে। এসবই বিজেপি সরকারের কাজ, যা আপনাদের বোঝা উচিত।
মন্ত্রী আরও বলেন অনেকে জনজাতির প্রতি ভালোবাসার কথা বলেন, কিন্তু আগে কেউ পদ্মশ্রী পাননি। বিজেপি সরকার আসার পর ১১ জন ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনই জনজাতি সম্প্রদায়ের। ২০১৮ সালের আগে তারা কেন এই সম্মান পাননি?
তিনি জানান, আগে ত্রিপুরা থেকে কেউ রাজ্যপাল হননি, কিন্তু এখন জনজাতি সম্প্রদায়ের জিষ্ণু দেববর্মা রাজ্যপাল হয়েছেন যা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কারণে। তিনি সবসময় জনজাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপর জোর দেন, এবং সেই পথ অনুসরণ করেই বিজেপি সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন অনেক রাজনৈতিক দল শুধু কথা বলে, কিন্তু কাজ করে না। জনজাতি এলাকার উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। উন্নয়ন চাইছে একমাত্র বিজেপি। ‘তিপ্রাল্যান্ড’ বা ‘থানসা’র মতো স্লোগান বাস্তবসম্মত নয়—উন্নয়নই একমাত্র বাস্তব পথ। আমরা জানি কীভাবে জনজাতিকে সম্মান দিতে হয়। তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষায় আমাদের সরকার কাজ করছে, যা আগের সরকার করেনি।
শেষে তিনি বলেন আমরাও ‘থানসা’ চাই, তবে সেটা সবার সঙ্গে মিলেই। কিছু আঞ্চলিক দল জনজাতি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং তাদের জন্য প্রকৃত কাজ করছে না।
