আগরতলা: এবার ইতিহাস তৈরি করে প্রথমবারের মতো এডিসিতে সরকার গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ভারতীয় জনতা পার্টি কখনো হিংসায় বিশ্বাস করে না।

                            এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ এডিসির সদর কার্যালয় খুমুলুংয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংকল্প পত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত কার্যক্রমে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                            
এই সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়নে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আজকে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংকল্প পত্রে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে - এতদিন ধরে এডিসি এলাকার যে অনুন্নয়ন ছিল সেটাকে এখন উন্নয়নের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মিলিত ডাবল ইঞ্জিন সরকার এডিসিকে প্রচুর পরিমাণ বরাদ্দ দিয়েছে। সেই সঙ্গে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নেও অগ্রাধিকার দিয়েছে। জল জীবন মিশনে নল সে জল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
                                মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রিয়াং শরণার্থীদের সুষ্ঠু পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যে তাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলিতে বিদ্যুৎ পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  জম্পুই হিলের মতো সুউচ্চ জায়গায় উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে বিষয়টা সাম্প্রতিক মন কি বাত কার্যক্রমে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের সংকল্প পত্র তৈরি শুধু এমনি এমনি করা হয়নি। এরমধ্যে বাস্তব তুলে ধরা হয়েছে। সংকল্প পত্রের প্রতিটি পয়েন্টে জনজাতিদের কল্যাণ সম্পৃক্ত রয়েছে। এবার একটা ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে। ভারতীয় জনতা পার্টির মতো সর্ববৃহৎ পার্টি এবার প্রথমবারের মতো এডিসিতে সরকার গড়তে যাচ্ছে। ভারতীয় জনতা পার্টি কখনো হিংসায় বিশ্বাস করে না। এবার ২৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২৮টি আসনে লড়াইয়ের ঘোষণার পর থেকেই হিংসাত্মক ঘটনা করছে তারা। আমরা এধরণের হিংসার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও সেই দিশায় চলেন। অথচ তারা শান্তির কথা বলেও অশান্তি সৃষ্টি করে। জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণে আজকের যে সংকল্প পত্র প্রকাশ সেটা বুঝতে পারবেন জনজাতি অংশের মানুষ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যা বলেন তাই করেন। 

                               এদিন এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।   
                           মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আজ বিজেপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংকল্প পত্রে মোট ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে -  ককবরক এবং অন্যান্য সমস্ত জনজাতি ভাষাকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ভিলেজ কমিটি গণতান্ত্রিকভাবে গঠিত হবে। জনজাতি সমাজের প্রচলিত আইন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনজাতি মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি অঞ্চলে তাঁত ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হবে। জনজাতি এলাকার প্রতিটি জেলায় একটি করে মেয়েদের হোস্টেল স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ভিলেজ কমিটি এলাকায়স্মার্ট ও আধুনিক অফিস ভবন তৈরি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বন ধন যোজনার অধীনে জনজাতিদের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য বনজ দ্রব্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, প্যাকেজিং এবং বিপণনের ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে৷ ধলাইয়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। খুমুলংয়ে একটি নার্সিং এবং প্যারা মেডিকেল ইনস্টিটিউট খোলা হবে। জনজাতি মহিলাদের স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী (এসএইচজি) শক্তিশালী করা হবে এবং "লাখপতি দিদিদের" সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ এলাকার আওতাধীন গ্রামীণ বাজার আধুনিকায়ন করা হবে।এডিসি এলাকার বিভিন্ন অংশে কমিউনিটি কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত শেড এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সহ খোলা জায়গা তৈরি করা হবে।খুমুলংয়ে একটি আধুনিক ফুটবল একাডেমি স্থাপন করা হবে। টিটিএএএডিসিকে ত্রিপুরা অটোনোমাস টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (TATC) হিসাবে পুনঃনামকরণ করা হবে। এডিসি এলাকায় একটি মার্শাল আর্ট একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যবাহী জনজাতি ঔষধি অনুশীলনগুলি প্রসারিত, নথিভুক্ত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত করা হবে। প্রতিটি সাব-জোনাল এলাকায় জনজাতি পোশাক ও বয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর "মাদকমুক্ত ত্রিপুরা" এর স্বপ্ন এডিসি প্রশাসনের মাধ্যমেও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এডিসি এলাকায় বাঁশের পণ্যের জন্য প্রশিক্ষণ ও বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। খুমুলংয়ের উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর রাবার মিশনের অধীনে, বর্তমানে এডিসি এলাকায় রাবার চাষের জন্য যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তা আরও বাড়ানো হবে। যোগ্য সুবিধাভোগীদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে স্থায়ী বাড়ি দেওয়া হবে। টিনের ছাদের বাড়িতে বসবাসকারী প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বাড়ি দেওয়া হবে। জুমিয়া পরিবারকে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং উন্নয়নমূলক সহায়তা (বীজ, সার, ইত্যাদি সহ) প্রদান করা হবে। জনজাতি এলাকায় সমস্ত পরিবারের বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে উদ্ভাবনী প্রকল্প সহ পাইপযুক্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এডিসি এলাকায় সোলার লাইটিং প্রকল্পগুলি বৃহৎ আকারে বাস্তবায়িত হবে৷ এডিসি এলাকার আওতাধীন ছেলেমেয়েদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাকরির সুযোগ পেতে বিশেষ দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এডিসি এলাকার আওতাধীন যুব উদ্যোক্তাদের স্টার্ট আপ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ স্থাপনের জন্য আর্থিক এবং অন্যান্য ধরণের সহায়তা প্রদান করা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *