আগরতলা:এডিসির সাধারণ নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা হয়নি।তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।আগামী এপ্রিল মাসে ভোট হওয়ার কথা।সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই রাজ নৈতিক দল গুলোর তরফেও কর্মসূচি জারি আছে।
শুক্রবার এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহার উপস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির গুরুত্বপূর্ণ এক সংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, সাংগঠনিক শক্তি কেন্দ্র করণ এবং পার্টির কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা জনজাতি মোর্চার অন্যতম নেতা বিপিন দেববর্মা,বিধায়ক রাম পদ জমাতিয়া সহ অন্যান্য কার্যকর্তাগণ।
এ দিনের বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি যেমন তুলে ধরা হয়, ঠিক তেমনি এডিসি নির্বাচনকে মাথায় রেখে সংগঠন এবং প্রচারকে জোরালো করার অঙ্গীকার করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব।এডিসি নির্বাচনের জন্য বিজেপি সমস্ত রকমের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।এই প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় ভারতীয় জনতা পার্টি মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিতিতে কর্মসূচি সংঘটিত করতে পেরেছেন। এডিসি এলাকার প্রত্যেকটি মন্ডল এবং বিভিন্ন মোর্চার সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য এদিনের বৈঠকে জোরদার আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।এখন দেখার আসন্ন এডিসি নির্বাচনে রাজ্য সরকারের দুই শরিক দল বিজেপি এবং তিপ্রা মথার মধ্যে প্রকাশ্যে জোট হয় কিনা।এর মধ্যে আবার রয়েছে সরকারের আরেক শরিক আইপিএফটি।তারাও এই জোটের মধ্যে সামিল হবে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।
যদিও তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন বিভিন্ন জনসভায় প্রকাশ্যে বলছেন এডিসি এলাকায় কোন জাতীয় দলকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তার পাশাপাশি মথা বর্তমানে এডিসি প্রশাসনে রয়েছে।তাই তারা এককভাবেই লড়াই করবে বলে তিনি হুংকার দিচ্ছেন। অন্যদিকে,মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্ব বিভিন্ন জন সভায় প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছেন বিজেপি এবার ২৮শে ২৮ আসন এডিসিতে দখল করবে।বিজেপি জোট করার কথা ভাবছেন না।যদিও রাজনৈতিক মহলের অভিমত,ত্রিপুরায় যতই বিজেপির আর মথার মধ্যে নাটক মঞ্চস্থ হোক না কেন?
অবশেষে প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহের নির্দেশে বিজেপি এবং মথা বন্ধুত্ব অটুট রেখে এডিসি নির্বাচনে লড়াই করবে।সঙ্গে থাকবে আইপিএফটি ও।যেমনটা হয়েছিল ২০২৩ সালের বিধান সভা নির্বাচনের সময়। অর্থাৎ বিজেপি এবং মথার মধ্যে গোপন সমঝোতা। এই গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ই বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ত্রিপুরায় দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসেছে।
বিরোধীরা বলছেন, এডিসি এলাকায় জনজাতি মানুষের বিভিন্ন জলন্ত সমস্যা এবং তাদের ক্ষোভকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই মথা এবং বিজেপি হুমকি-ধমকি এবং মারামারি করছে।মথা,বিজেপি এবং আইপিএফটির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে কোন ভাবেই সিপিআইএম কে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না।
