আগরতলা।।গত ৩০শে ডিসেম্বর দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রকাশিত হয়েছিল তারই প্রতিবাদে প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় , প্রথমত, দুটি জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত সুজিত মন্ডল, নয়ন দাস, বিজন দেবনাথ ও রাজু সাহা প্রদীপ চক্রবর্তীর ম্যানেজার রাজেশ ঘোষের (টুনুর) প্ররোচনায় কিভাবে থানায় মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে যায়? পুলিশ কেন সে সময় তাদের গ্রেপ্তার করেনি? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিবারের লোকজন।

প্রসঙ্গত, এই সমাজদ্রোহীরা থানায় গিয়ে যে অভিযোগ দায়ের করেন , প্রদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জমির জবরদখল অসামাজিক কাজের অভিযোগ দায়ের করেন, যদিও এই অভিযোগ গুলির কোন সত্যতা প্রকাশ করেনি এবং এই সংক্রান্ত কোনো মামলাও কোন থানায় কখনোই রুজু হয়নি। এমনকি এও অভিযোগ করা হয়েছিল যে মৃত ব্যক্তির নামে নাকি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বানিয়ে জমির মালিকানা আদায় করে নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শ্রী চক্রবর্তীর বাড়ির লোকজন বলেন রাজেশ ঘোষ আমাদের ঘরের লোক হিসাবে প্রদীপ চক্রবর্তীর জায়গা বেচা কেনা, নথিপত্র ঠিকঠাক করতেন।

রাজেশ ঘোষও অনেক ব্যক্তির কাছে এই জায়গা গুলি প্লটে বিক্রি করে প্রদীপ চক্রবর্তীর কাছ থেকে পাওনা হিসেবে কোটি কোটি টাকা নিয়ে গেছে। তাদের অভিযোগে ছিল ১২ ফুট রাস্তার অবৈধ মাটি ভরাট, এই রাস্তার ফলে নাকি মানুষের বাড়ি ঘরে জল ওঠে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কল্পনা প্রসূত। কারণ, সরকারি কার্যালয় থেকে ডাইভারশন হতে চলেছে এই মাটি ভরাটের। এই অভিযোগকারী যারা থানায় গিয়েছিল, তারাও বিভিন্ন সময়ে নানা সাহায্যের জন্য হাত পেতে ছিল, এই প্রদীপ চক্রবর্তীর কাছে, এমনকি নিয়েও ছিল। এতদিন জল জমার কোন অভিযোগ ছিল না, এখন সুখা মরশুমে জল জমাট বাধার তো কোন প্রশ্নই ওঠে না।

এখানে উল্লেখ্য, মামলায় অভিযুক্তরাই থানায় অভিযোগ করেছেন, ভূমি মাফিয়া এবং দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এজন্য তো “আমাদের পরিবারের প্রদীপ চক্রবর্তীর অভিযোগ মূলে ৩০ ডিসেম্বর এন সি সি থানায়, ভুমি মাফিয়া এবং সমাজদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার জাতি জনজাতি অংশের বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ডেপুটেশানই দিয়েছেন। পত্রিকায় আরো লিখেছে, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নাকি জমা দিয়েছে। এর সত্যতা হলো দুর্জয় নগরের, প্রায় ৪ হাজার স্বাক্ষরকারী আছেন।

আর এই দুষ্কৃতিকারীরা রাস্তাঘাটে, দোকান পাঠ থেকে ক্রেতাদের থেকে অন্যান্য কিছু দুষ্কৃতিকারী থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। তারপরেও স্বাক্ষর জাল করে দেড়শোও পার করতে পারেনি। প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার প্রয়োজনে, দুর্জয়নগর, নতুন নগর, কো-অপারেটিভ, পটু নগর, শালবাগান, হাতিপাড়া, লিচুবাগান সহ দশ হাজার মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে প্রদীপ চক্রবর্তী-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের ভান্ডাফর করা হবে। প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার থেকে আরো জানানো হয় , রাজেশ ঘোষ (টুনু) আমাদের ঘরে প্রায়ই বলতো সে নাকি দুর্জয় নগরে, ৬০/৭০ বছর আগে পালদের সম্পত্তি কাগজপত্র ঠিক করছে। এবং একটি দু’নম্বরই উইল দিয়ে, প্রায় দুই কানি জায়গাও ঠিক করছেন। সবশেষে প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই খবরের প্রতিবাদ জানানো হবে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

তারা আরো অভিযোগ করেন, ম্যানেজার কর্তৃক দুষ্কৃতিকারীদলরা প্রদীপ চক্রবর্তী সহ আমাদের পুরো পরিবারকে, সারা দুর্জনগরের অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে যে নির্যাতন, খুন করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন । তাতে সন্দেহ জাগে আমাদের আগরতলা শহরের কোন ছদ্মবেশী মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যকারী, এই নীল নকশার পেছনে ছুরি ঘোরছে কিনা।

অতিসত্বরই প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার সন্দেহের সত্যতায় উপনীত হলে, যত বড় ক্ষমতাবানই হোক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন। কারণ, আমাদের বাড়ির ম্যানেজার রাজেশ ঘোষ, প্রদীপ চক্রবর্তীর মোবাইলে এবং ছিনাই হানির পঙ্কজ এর মোবাইলে বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ধরে হুমকি ধমকি দিয়েছেন। প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার আরো জানিয়েছেন, এই সমাজ দ্রোহী চক্রের বিরুদ্ধে যখন মানুষের চাপে পড়ে প্রদীপ চক্রবর্তী মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন তারপর থেকে বাজি পোড়ানোর নামে, পিকনিকের নামে আমাদের বাড়ির সামনে গভীর রাত পর্যন্ত উন্মত্ত তাণ্ডব চালিয়েছিল নিতাই সাহা, রাজেশ ঘোষ, নয়ন দাস, সুজিত মন্ডল, চিরঞ্জিত ধর, বাপন ঘোষ, রাজু সাহাদের পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ মদতে।

এ বিষয়েও তাদের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। এবং গতকাল থানায় যে মিথ্যা অভিযোগ করতে যারা গিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেও প্রদীপ চক্রবর্তীর পরিবার থেকে মানহানির মামলা করা হবে। যদিও একটি বৈদ্যুতিক চ্যানেল ত্রিপুরা ওপেনিয়ন এর বিরুদ্ধে এনসিসি থানায় প্রদীপ চক্রবর্তী এফ আই আর করতে চলেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *