আগরতলা।।রাজস্ব দপ্তরের অধীনে ৬ জন অ্যাসিস্টেন্ট সার্ভে অফিসার এবং ১০ জন রেভিনিউ ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধীনে ৩২ জন জুনিয়র ড্রাইভার পদে নিয়োগ করা হবে।
আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানাতে গিয়ে একথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটনমন্ত্রী জানান, রাজস্ব দপ্তরের অধীনে অ্যাসিস্টেন্ট সার্ভে অফিসার এবং রেভিনিউ ইন্সপেক্টর পদে টি.পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তাছাড়া জুনিয়র ড্রাইভার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিবহণ দপ্তরের মাধ্যমে সরাসরি সম্পন্ন করা হবে।
গতকালের মন্ত্রিসভার অন্যান্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে রাজ্যের সকল আবাসিক হোস্টেলগুলিতে থাকা ছাত্রছাত্রীদের দৈনিক স্টাইপেন্ড ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। এরফলে রাজ্য সরকার পরিচালিত ৩৩টি বালক, ২২টি বালিকা হোস্টেল এবং ১টি এন.জি.ও. পরিচালিত হোস্টেলের মোট ৭১২ জন ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সর্বভারতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা যাতে আরও বেশি পরিমাণে অংশগ্রহণ করতে পারে তার জন্য সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যের কোচিং সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
গতকালের মন্ত্রিসভায় আগরতলা, আমবাসা এবং উদয়পুরে এ ধরনের কোচিং সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক্ষেত্রে আগরতলা বীরচন্দ্র স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির নতুন ভবনে ইউ.পি.এস.সি. পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টার খোলা হবে। ইউ.পি.এস.সি.’র এই কোচিং নেওয়ার সময়সীমা ১২ মাস। প্রত্যেক সপ্তাহে মোট ২০ ঘন্টা ক্লাস নেওয়া হবে। তাছাড়া এস.এস.সি, আর.আর.বি. এবং আই.বি.পি.এস. পরীক্ষার কোচিং সেন্টার যথাক্রমে আমবাসার জি.ডি.সি’তে এবং উদয়পুরে নেতাজি সুভাষ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে শুরু করা হবে। এক্ষেত্রে কোচিং নেওয়ার সময়সীমা হবে ৬ মাস এবং সপ্তাহে মোট ২৪ ঘন্টা ক্লাস করানো হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের নির্বাচিত করা হবে। রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ছাত্রছাত্রীরাই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি সেন্টারে সর্বোচ্চ ১০০ জন ছাত্রছাত্রী কোচিং নিতে পারবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের অধীনে নতুন স্কিম নারী আদালত রাজ্যের ১০টি পঞ্চায়েতে পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে চালু করার সিদ্ধান্ত গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। এই স্কিমে গ্রামে অত্যাচারিত, শারীরিক নিগৃহীত কিংবা আক্রান্ত মহিলাদের জন্য বিচার প্রক্রিয়া গ্রাম পর্যায়েই করা হবে। এই স্কিম রাজ্যে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর বাস্তবায়ন করবে। উত্তর ত্রিপুরা জেলার ফুলবাড়ি, ঊনকোটি জেলার শ্রীরামপুর, খোয়াই জেলার পশ্চিম সোনাতলা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার লেম্বুছড়া, সিপাহীজলা জেলার খেদাছড়া, গোমতী জেলার টেপানীয়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার
বিবেকানন্দপল্লী পঞ্চায়েত সহ ধলাই জেলার সিঙ্গিনালা, হালহালি এবং উত্তর হালহালি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই নারী আদালত চালু করা হবে। এই আদালত সর্বোচ্চ ৯ জনের কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে। এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণ থাকতে পারবেন।
