আগরতলা :২০২৪ সালে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ টেট ওয়ান ও টেট টু উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের একসাথে নিয়োগের দাবিতে পুনরায় মঙ্গলবার শিক্ষা দপ্তরের সামনে এসেছেন।কিন্তু চাকুরী প্রত্যাশীরা নিয়োগের দাবিতে এলিমেন্টারি অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

শিক্ষা দপ্তরের এলিমেন্টারি আধিকারিকদের সঙ্গে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে চায়।তার পাশাপাশি বেশ কিছুক্ষণ সময় তারা শিক্ষা ভবন ঘেরাও করে রাখেন।তাদের দাবি অতি শীঘ্রই নিয়োগ করা হোক। শিক্ষা ভবনে আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও এদিন সফল হয়নি। তাদের হাতে প্লেকার্ডে লেখা ছিল শুন্য পদ পূরণ কর, শিক্ষার মান রক্ষা কর।টেট উত্তীর্ণরা জানান তারা কারোর কাছ থেকে কোন সঠিক উত্তর পাচ্ছেন না। পরবর্তী সময়ে তারা অর্থ দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে তাদের আইজিএম চৌমুহনীতে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় এডি নগর পুলিশ মাঠে।

টেট উত্তীর্ণ চাকুরী প্রত্যাশীরা বলেন আমরা কোন আন্দোলন করতে আসেনি।আমরা শুধু জানতে এসেছিলাম প্রচুর শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কেন সবাইকে নিয়োগ করা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদেরকে বিশাল পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে ক্রিমিনালের মত জোর জবরদস্তি করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তারা বলেন সম্প্রতি ১০২০ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে শিক্ষা দপ্তর। কিন্তু ২০২৪ সালে টেট ওয়ান এবং টু মিলে পাস করেছে ১৪৮৮ জন ছাত্রছাত্রী। তাহলে কেন সবাইকে একসঙ্গে নিয়োগ করা যাচ্ছে না?যেখানে রাজ্যজুড়ে চরম শিক্ষক সংকট চলছে। সেখানে টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ করতে এত জটিলতা কেন?

রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ও এলি মেন্টারি অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। তারা মনের দুঃখে বলেন যে আমরা টেট পাশ করে অন্যায় করেছি।টেট উত্তীর্ণরা বলেন,শিক্ষামন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য চেষ্টা করলেও তারা দেখা করতে পারছেন না। তারা আরো জানান অন্যান্য মন্ত্রী এবং বিধায়ক সকলের কাছে তাদের নিয়োগের বিষয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।ক্ষুব্ধ হুব শিক্ষক জানায়,স্কুলে শিক্ষকের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলনের নামে পুলিশের মার খাচ্ছে, আর আমরা টেট উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক পদে চাকুরীর দাবি যাইতে গিয়ে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।এ কোন ধরনের প্রশাসন চলছে ত্রিপুরায়।প্রশ্ন টেট উত্তীর্ণদের।

২০২৪ সালের টেট উত্তীর্ণ অস্নাতক ও স্নাতক প্রত্যেক ক্যান্ডিডেট দের একসাথে নিয়োগের দাবিতে এবং বয়স উত্তীর্ণ ক্যান্ডিডেটদের স্বার্থে ও স্কুলগুলিতে শিক্ষক স্বল্পতা দূরী করণে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে এক সাথে সবাইকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাকরির প্রত্যাশী এক টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক জানান, ২০২৪ সালে টেট পরীক্ষার নোটিফিকে শন জারি করা হয়েছিল।২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে অস্নাতক ও স্নাতক শিক্ষক পদে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল।কিন্তু ফল প্রকাশ ও সার্টিফিকেট ইস্যুতে তাদের বারবার আন্দোলন করতে হয়েছে।অনেক আন্দোলনের পর কিছুদিন পূর্বে তারা সার্টিফিকেট পেয়েছেন।

তাদের পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর শিক্ষা দপ্তরে অধীনে বিভিন্ন সিলেকশন টেস্ট হয়ে ফল প্রকাশিত হয়েছে। যথারীতি তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।কিন্তু ২০২৫ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা একটি কথাও বলছেন না।অন্যদিকে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক বলছেন টেট উত্তীর্ণ মানে চাকরি হওয়া নয়।তিনি বলেন বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তর হচ্ছে শিক্ষার কেন্দ্র বিন্দু।যেখানে ভবিষ্যৎ প্রয়োজন নিজের শুরু থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন।কিন্তু ইউ জি টি ও জি টি টেট উত্তীর্ণ শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এই বিষয়টা টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক শিক্ষিকারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।এরমধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক চাকুরীর বয়স উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান তারা আর টি আই করে জানতে পেরেছেন,শিক্ষা দপ্তরে বর্তমানে অস্নাতক শূন্য পদ রয়েছে ১৬০৬টি, আর অস্নাতক পদে ২০২৫ সালে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬৮ জন যুবক যুবতী।স্নাতক পদে শূন্য পদ রয়েছে ২৭০৩ টি,আর পাস করেছেন১৪০৮ জন যুবক-যুবতী। তারপরেও কেন তাদের নিয়োগ করা হচ্ছে না?তিনি বলেন এতদিন ধরে রাজ্য বাসী শুনে আসছে ত্রিপুরায় টেট উত্তীর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য যুবক-যুবতী পাওয়া যাচ্ছে না।টেট পরীক্ষায় পাশের হার খুবই কম।তারপরেও তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং রাজ্য সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।২০২১ সালে টেট উত্তীর্ণ ৩০০০ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল।তারপর ২০২২ সালে২৪০ জন টেট উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল।২৩ এবং ২৪ সালের বিভিন্ন জটিলতার কারণে টেট পরীক্ষা হয়নি।যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া করার প্রশ্নই নেই।এর মধ্যে প্রতি বছর অনেক শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন।তাছাড়া ১০৩২৩ এর শূন্য পদ রয়েছে।স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের বুনিয়াদি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক স্বল্পতায় ছাত্র- ছাত্রীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।রাজ্যের প্রায় পাঁচশত স্কুল রয়েছে যেখানে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া করানো হচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষকের দাবিতে প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে। সম্প্রতি একটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষিকার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটা খেয়েছে।এটা কি ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য কলঙ্ক নয়?তারপরেও শিক্ষা দপ্তরে অস্নাতক ও স্নাতক পদে এত গুলো শূন্যপদ পরে থাকার পরেও কেন তাদের নিয়োগ করা হচ্ছে না?এই নিয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।চাকুরী প্রত্যাশীরা সংবাদ মাধ্যমের কাছে আবেদন জানান তারা যেন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার নিকট এই বিষয়টি উত্থাপন করেন।

পরিশেষে টেট উত্তীর্ণরা বলেন, নতুন ত্রিপুরা, এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে অতিসত্বর যেন তাদের নিয়োগ করা হয়।এই প্রার্থনা জানান রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর নিকট।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *