আগরতলা:শুক্রবার থেকে কুমারঘাট মহকুমা ভিত্তিক পাঁচ দিনের পিঠাপুলির উৎসবের সূচনা করেন বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস। উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলার সভাধিপতি অমলেন্দু দাস ,জেলা শাসক তমাল মজুমদার সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক গণ।

আগামী ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কুমারঘাট পূর্ত দপ্তরের মাঠে চলবে এই ঐতিহ্য বাহী পৌষ মেলা।এই উপলক্ষে এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে ৫০- পাবিয়াছড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস বলেন, “গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে এবছর এই পৌষ মেলার আয়োজন করা হয়। লোকসংস্কৃতি,সংগীত ও ঐতিহ্যের মেলাই এই মেলার মূল আকর্ষণ। গত বছর মেলা ছিল ৩ দিনের,কিন্তু এবছর মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের কথা মাথায় রেখে ৫ দিনের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান,মেলায় বিভিন্ন পিঠে,পুলি,শাক সবজি সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে স্টল খোলা হয়েছে।মেলার প্রতি দিনেই থাকবে রাজ্য ও বহির্রাজ্যের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক মেলা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী স্নেহা শীল,১০ জানুয়ারি থাকবেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি সাহা, ১১জানুয়ারি থাকবেন শিল্পী পরমিতা রিয়াং,১২ জানুয়ারি থাকবেন সঙ্গীত জগতের পরিচিত মুখ অরুণিতা কাঞ্জিলাল।এছাড়াও বিধায়ক জানান,১৩ জানুয়ারি সকাল দশটা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত একটা মেঘা স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হবে।

এখানে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণ। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আয়োজন করা হবে মাছ ও সবজি মেলা।স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা তাঁদের উৎপাদিত টাটকা মাছ ও শীতকালীন সবজি নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন,যা মেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।তিনি বলেন, এই পৌষ মেলা কেবলমাত্র একটি আনন্দ আয়োজন নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি জানান গ্রাম এবং শহর থেকে হারিয়ে যাওয়া পুরনো সংস্কৃতি পৌষ সংক্রান্তি কে আবারো স্বমহিমায় তুলে ধরতে হবে। বিধায়ক তার ভাষণে আরো বলেন, মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী।

এক সময় বলা হত শুধু উন্নয়নের কথা। কিন্তু উন্নয়ন কোথায় হয়েছে, তা দেখা যায় না। বিজেপির সাড়ে সাত বছরের শাসনে কুমারঘাটে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কল্পনার বাইরে। এই পৌষ সংক্রান্তির মিলন মেলা থেকে আমরা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাবো। রাজ্যের সাথে সাথে উনকোটি জেলা ও কুমারঘাট মহকুমাকে আরো মজবুত করে তুলবো। বিধায়ক এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সপরিবারে উপস্থিত থেকে মেলাকে সফল করার আহ্বান জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *