শান্তির বাজার।।সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ, এপারে ভারত—মাঝখানে বয়ে চলেছে ফেনী নদী। আর সেই নদীর জলেই প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো এক আবেগঘন মুহূর্ত!সাব্রুম সংলগ্ন বাংলাদেশের রামগড় সীমান্তে স্থানীয় শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে বের হয় শোভাযাত্রা।

ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ। বিদায়ের বিষণ্ণতা আর উৎসবের আবেগকে সঙ্গী করে আনুমানিক বিকেল চারটা নাগাদ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে সম্পন্ন হয় প্রতিমা বিসর্জন।

এই বিসর্জন শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং দুই দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এক তাৎপর্যপূর্ণ ছবি। রাষ্ট্রের সীমানা আলাদা হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি আর মানবিক আবেগের বন্ধন যে আজও অটুট, সেই বার্তাই যেন উঠে এল ফেনী নদীর তীরে।দুর্গাপুজো মানেই মিলন, ভালোবাসা আর সম্প্রীতির উৎসব। আর বিসর্জন মানেই বিদায়ের মধ্যেও নতুন করে ফিরে আসার প্রত্যাশা।

ফেনী নদীর স্রোতের মতোই বয়ে চলুক শান্তি, সৌহার্দ্য আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন। সীমান্তের দুই পারে আলাদা রাষ্ট্র, কিন্তু উৎসবের আবেগে মানুষের হৃদয় আজও বাঁধা একই সুরে।ফেনী নদীর বুকে প্রতিমা বিসর্জন যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—কাঁটাতার দেশকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের সম্প্রীতিকে নয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *