আগরতলা: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, অবৈধভাবে এসআইআর এর মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাদ দেওয়া ১৩ কোটি ভোটারের নাম পুনরায় নথিভুক্ত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিতে পূর্বের তিনজনের কমিটি গঠনের পদ্ধতি পুনরায় চালু করতে হবে।

এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে আজ গোটা দেশের সাথে রাজধানী আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সিপিআইএম পশ্চিম জেলা কমিটি। সভায় সদর, দুকলী, জিরানিয়া ও মোহনপুর থেকে বিভিন্ন অংশের মানুষ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা, পশ্চিম জেলা কমিটির সম্পাদক তথা সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক রতন দাস, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক শ্যামল দে এবং শ্রমিক নেতা সমর চক্রবর্তী।সভায় রাধাচরণ দেববর্মা বলেন, দেশ আজ ভয়ঙ্করতম সংকটে রয়েছে।

স্বাধীনতার পর দেশের বুকে এত বড় বিপদ আর আসেনি। বিজেপি সরকার দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি স্বাধীন সংস্থাকে শাসকের কুক্ষিগত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। এরই নিকৃষ্টতম নিদর্শন হল স্বাধীন নির্বাচন সংস্থা। বিজেপি দল সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী পথে বেআইনিভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তার মতে বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো খারাপ ও দালাল এর আগে ছিল না।

কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের রাবার স্ট্যাম্প হয়েই কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেশকে কলঙ্কিত করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির একনায়কতন্ত্র কায়েমের স্বৈরাচারী পথ নিয়েই কাজ করছে। দিল্লিতে দেশবাসীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে দমন করতে মরিয়া হয়ে আইনকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তাই বৃহত্তর সংগ্রামের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।সভায় রতন দাস বলেন, বিজেপি শাসনে দেশবাসী দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াইয়ে রাস্তায় নেমেছে। সরকার দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে মরিয়া এবং দেশবাসীর স্বাধীনতা বলে কিছুই রাখতে চায় না কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক দল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে। ১৩ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর বুকে নজিরবিহীন।

পৃথিবীর কয়েকটি দেশকে যুক্ত করলেও এত জনসংখ্যা হবে না। এসআইআর এর অর্থ হল বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়ে বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। তাই পার্টির তরফে চার দফা দাবি জানানো হচ্ছে এবং দেশে বৃহত্তর আন্দোলন চলছে। এই সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের ময়দানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *