আগরতলা: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বৃহস্পতিবার কিংবদন্তি গায়ক ও সুরকার শচীন দেব বর্মণের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ভারতীয় সঙ্গীতে তাঁর অবদান এবং ত্রিপুরার সাথে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা তিনি স্মরণ করেন।
আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজপরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মাটির কাছাকাছি থাকা এই কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সরকারকে দান করেছেন। তিনি রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন, যেখানে তাঁর সবকিছুর সুযোগ-সুবিধা ছিল, কিন্তু তিনি সেসব ছেড়ে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী শচীন দেব বর্মণের জন্মস্থান বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লাকে উল্লেখ করে বলেন যে, ওই অঞ্চলের লোক ঐতিহ্য, সুর ও গান তাঁর সঙ্গীত ভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
ডাঃ সাহা বলেন, শচীন দেব বর্মণ পরবর্তীতে কলকাতায় এবং পরে মুম্বাইতে চলে যান, যেখানে তিনি ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী গায়ক ও সুরকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর গান এবং স্বতন্ত্র সঙ্গীত শৈলী কেবল ভারতেই নয়, সারা বিশ্বে আজও সমান জনপ্রিয়। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী। এই উপলক্ষে আমি ত্রিপুরার পাশাপাশি সমগ্র দেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ত্রিপুরার মাটির সাথে সম্পর্কিত এত বড় একজন গায়ক ও সুরকার জন্মগ্রহণ করেছিলেন—এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
মুখ্যমন্ত্রী শচীন দেব বর্মণকে একজন স্বনির্ভর ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যিনি তাঁর রাজকীয় পটভূমির ওপর নির্ভর না করে কেবল নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধ্রুপদ ও হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপাদানের সাথে লোক সুর মিশ্রণ ঘটানোর অনন্য ক্ষমতা তাঁর সঙ্গীতকে এক বিশেষ চরিত্র দান করেছিল, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সঙ্গীত এমন এক বিষয় যা সবার হৃদয়ে থেকে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে শচীন দেব বর্মণের জীবন, সঙ্গীত যাত্রা এবং সংকল্প সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানান।
ডাঃ সাহা বলেন, শচীন দেব বর্মণের জীবন বিশেষ করে তরুণদের উৎসর্গ ও আত্মবিশ্বাসের সাথে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রবাদ প্রতীম সঙ্গীত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
