আগরতলা: শিক্ষক শিক্ষিকাদের জ্ঞান ও দিক নির্দেশনার মধ্য দিয়েই আগামীদিনে বিকশিত ও উন্নত ভারত গড়া সম্ভব। সমাজ গঠনে শিক্ষক শিক্ষিকাদের গুরুত্ব ও অবদান সর্বাধিক। শিক্ষকতার পেশা একটি মহান ও গৌরবের বিষয়। দেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবেই পরিচয় দিতে সর্বদা গর্ববোধ করতেন। তাঁর বহুমুখী কর্মজীবনের মূল ভিত্তি ছিল শিক্ষকতা ও শিক্ষা দানের মহান আদর্শ। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত শিক্ষক প্রণাম-২০২৬ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উচ্চশিক্ষা দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের জীবন দর্শন আগামীদিনের পথ চলার এক উজ্জ্বল দিশারি। তাঁর শিক্ষা ভাবনা সমাজ পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিল। বর্তমান শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও জ্ঞানের পূর্ণতার মাধ্যমে শিক্ষাদান করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, একটা সময় ভারতবর্ষ জ্ঞান, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থানে ছিল। আমাদের সেই হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য ‘বিরাসত ভি, বিকাশ ভি, ঐতিহ্যও, উন্নয়নও’ এই মন্ত্রকে পাথেয় করে জ্ঞানভিত্তিক ভারতবর্ষ গড়ে তোলা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান ও শিক্ষায় যারা সমৃদ্ধ, শ্রেষ্ঠত্বের শিখর তাদের জন্যই উন্মুক্ত। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় শিক্ষানীতির প্রবর্তন করেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার সাথে প্রযুক্তিকেও যুক্ত করেছেন। ডাঃ সাহা বলেন, সীমাবদ্ধতার গন্ডি পেরিয়ে সম্ভাবনার পথে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হলো শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। শিক্ষা শুধু ক্যারিয়ার তৈরির জন্য নয়। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো চরিত্র গঠন। শিক্ষার প্রসারে জ্ঞানের পূর্ণতা লাভের জন্য দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। প্রকৃত ও গুণগত শিক্ষা হলো সমৃদ্ধির পথ। গুণগত শিক্ষাকে সর্বস্তরে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাই হলো গুণগত শিক্ষার মূল চাবিকাঠি। তিনি ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানবসম্পদকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন, শিক্ষা দপ্তরের সচিব ডা. মিলিন্দ রামটেকে, ত্রিপুরা ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য যোগেশ প্রতাপ সিং, মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিভাষ দেব ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ইনফরমেশন টেকনোলজির (আগরতলা) ডিরেক্টর অভয় কুমার, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ বিদ্যাদেবী সরস্বতী ও ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষদের হাতে স্মারক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন।

>

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *