আগরতলা।। রাজ্যের চলমান পরিস্থিতি দিকে দিকে ছিনতাই, লুটতরাজ, মাদক সামগ্রী ব্যাপক হারে পাচার, ধর্ষণ, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সুর চরালেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
তিনি বলেন আনন্দনগরে ছাত্রী ধর্ষণের ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ। কারণ অভিযুক্ত শাসক দলীয় নেতার ছেলে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী বলে বেড়ান এই সকল বিষয়ে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না আইন আইনের পথে চলবে। তাহলে এটাই কি আইনের পথে চলানো হচ্ছে।
তিনি বলেন বিশালগরে নেমন্তন খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মহিলাদের আটক করে তাদের সকল কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে রাতে পুলিশের তহলদারি নিয়ে। বাইপাস রোডে রাতের বেলা মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে পারে না। শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে কর্মীর রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়া নজরে আসেনি। স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙ্গে পড়েছে। গর্ভবতী নারী থেকে শুরু করে রোগীরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে পারছে না। এই যদি রাজ্যের পরিস্থিতি হয় তাহলে কোথায় আইনশৃঙ্খলা।
মুখ্যমন্ত্রী বলে বেড়ান রাজ্যের পুলিশকে মুক্ত হস্ত করে দেওয়া হয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু কোথায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সকালবেলা আগরতলা রেলস্টেশনে মাদক উদ্ধার করার পর সন্ধ্যায় পুনরায় মাদক উদ্ধার হয় রাজ্যে। তাহলে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্য কি এটাই। জিরানিয়াতে 6 কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন অনেক প্রভাবশালী ন ব্যক্তিরা এই ঘটনায় ধরা পড়বে। কিন্তু কার্যত কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ। কারণ এই সকল মাদকদ্রব্য পাচারের পেছনে বড়সড় হাত রয়েছে।
মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে কার কার কাছে টাকা যায় সেই খবর এ রাজ্যের মানুষ জানে। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলছে না। প্রবীর চক্রবর্তী বলেন জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে। এর পিছনে ও রয়েছে কায়েমি স্বার্থ। তিনি বলেন কোন কিছুর দায়ই সরকার নিতে চাচ্ছে না। দায়িত্ব নিয়ে দায় যদি এড়িয়ে যেতে হয় তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। না হলে জাতীয় কংগ্রেস মাঠে রয়েছে।
কিভাবে সংগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে নামাতে হয় সেটা কংগ্রেস ভালই জানে। যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদেরকে সরকার থেকে উচ্ছেদ করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা তলের কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
