আগরতলা :১৯৯৮ সালে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা প্রাক্তন গেরিলাদের সংগঠন টি জি আর ডি সি এর নেতৃত্বে তিন দফা দাবির ভিত্তিতে প্রাক্তন গেরিলারা গত ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিল।
অবরোধের কিছুক্ষণ পরেই প্রশাসনের তৎপরতায় সংগঠনের নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করেন মহকুমা শাসক এবং বিকাশ দেববর্মার সাথে তাদের দাবি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে ছিলেন। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রাক্তন গেরিলারা বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। তারপর ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অধিকর্তা সংগঠনের নেতৃত্বের কাছে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়ে বলেন ২০২৫ ডিসেম্বর।
জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার পৌরহীতে তার অফিস চেম্বারে একটি প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রেক্ষিতে যথারীতি প্রাক্তন গেরিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রীর চেম্বারে উপস্থিত হন।তারা দীর্ঘ সময় তীর্থের কাকের মতন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রীর চেম্বারে বসে থাকেন।পরবর্তী সময়ে ট্রাভেল ওয়েল ফেয়ারের অধিকর্তা শুভাশিস দাস প্রাক্তন গেরিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কে আমতা আমতা করে জানান মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
স্বাভাবিকভাবেই প্রাক্তন গেরিলা নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর এই এহেন আচরণের খুবই ব্যাহত অপমানিত বোধ করেন।মন্ত্রীর এই অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে এবং তাদের তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা বৃহত্তর আন্দোলন সংঘটিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানিয়েছেন প্রাক্তন গেরিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।তারা আরো জানান, গত বাইশে ডিসেম্বরের ঘটনার পরেও ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পুনরায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন মন্ত্রীর এই অভাববো আচরণের বিরুদ্ধে তারা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা আরো কিছুদিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।
আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেইনি ত্রিপুরা সরকার বলে তাদের অভিযোগ। কিন্তু কোন রকম সরকারি আশ্বাস না পেয়ে বিভিন্ন দাবিতে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আত্মসমর্পণ কারী বৈরীরা।তারই ফলশ্রুতি হিসেবে আগামী ২০ শে ফেব্রুয়ারি আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ সংঘটিত করবে।তাতে যদি তাদের মৃত্যু হয় হবে। তাছাড়াও তারা বলেন এখন যদি কোন বৈঠক হয় তাহলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হতে হবে।
আগামী ২০ শে ফেব্রুয়ারির আগে যদি সরকার পক্ষের তরফে কোন আলোচনা না হয় তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে।এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক নিরু কুমার দেববর্মা, শৈলেন কুমার বরু, অমৃত রিয়াং সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা প্রাক্তন গেরিলাদের সঙ্ঘবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে পূর্বতন ও বামফ্রন্ট সরকার ২০০৭ সালে প্রাক্তন গেরিলাদের কল্যাণে বোর্ডে রিহেভিলিটেশন প্যাকেজ স্কীম নামে ৪৫ কোটি টাকার একটি বহুল প্রচারিত প্রকল্প চালু করেছিল।
উল্লেখ্য, বরাদ্দকৃত ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে ২২ কোটি টাকা পুনর্বাসন প্রকল্প ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাদ বাকি ২৩ কোটি টাকার প্রকল্প এখনো কার্যকরী হয়নি।গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে খেটে খাওয়া অসহায় প্রাক্তন গেরিলাদের বেঁচে থাকার দুই দফা দাবির ভিত্তিতে অবিলম্বে বাদ বাকি ২৩ কোটি টাকার পুনর্বাসন পুনরায় চালু করার এবং গেরিলা রিটার্নীদের বিরুদ্ধে দায়ের কৃত বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রাক্তন গেরিলাদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর নিকট একটি মেমোরেন্ডাম পেশ করেছিল।
তার প্রতিলিপি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রীর কাছেও পেশ করা হয়েছিল।কিন্তু আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় পুনরায় তাদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর নিকট রিমান্ডার লেটার পেশ করা হয়। তারপরও কর্তৃপক্ষ কোন সাড়া দেয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এরই মধ্যে চিফ মিনিস্টার রাবার মিশন প্রজেক্ট চালু হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সুবিধা ভোগী। রিটার্নি সদস্যদের নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ছিনিমিনি খেলা ও বিমাতৃ সুলভ আচরণ শুরু করেছেন বলেও তাদের গুরুতর অভিযোগ।
