আগরতলা:ভাগলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পরশ পুরে গত বুধবার একটি শিশুকে পৈশাচিক ও নারকীয় ভাবে মারধরের ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত তিন মহিলা। শনিবার তাদের মোহনপুর আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি জানান, শিশুটির উপর অকত্য নির্যাতনের খবর পেয়ে শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এয়ারপোর্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী অফিসার অভিজিৎ মন্ডল তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। ওসি আরো জানান, শিশুটির মা নেই, বাবার সাথে থাকে। পাশের বাড়ি থেকে কুড়ি টাকা চুরি করেছো বলে অভিযোগ করে ছয় বছরের এই শিশুটির উপর নারকীয় অত্যাচার করে এলাকার তিনজন মহিলা। তিনি বলেন শিশুরা যদি কোন অপরাধের সাথে যুক্ত থাকে,তাহলে আইন হাতে না নিয়ে, আইনের সাহায্য নেওয়া উচিত। এদিকে নির্যাতিতা শিশুর পাশে মানবদেহে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন অরিন্দম লোধ দাঁড়িয়েছেন।
একটি শিশুর উপর এমন অমানবিক অত্যাচার কোনভাবেই মানা যায় না। তিনি শিশুটির মানসিক বিকাশ যাতে ভালো থাকে তার জন্য তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য এয়ার পোর্ট থানার পুলিশকে বলেন। তিনি জানান শিশুটির বাবারও দোষ রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন যেন তার বাবার প্রতি লক্ষ্য রাখে। এলাকার মানুষ শিশুটির পাশে থেকে সহযোগিতা করেছে। শিশুটি যাতে সুরক্ষিত থাকে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
এদিকে, ভাগলপুরের বর্বরচিত ঘটনার শিকার শিশুর বাড়িতে যান এলাকার বিধায়ক নয়ন সরকার।তিনি ঘটনার বিস্তারিত শুনেছেন শিশুটির কাছ থেকে। বিধায়ক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান। তিনি এই ঘটনাকে নারকীয় বলে আখ্যা দেন।পাশা পাশি অভিযুক্ত দের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় তার আবেদন জানান। প্রসঙ্গত, একটি শিশুকে গাছের সঙ্গে হাত পা বেঁধে, ব্যাপকভাবে চড়, থাপ্পড় ,লাথি মারা হয়েছে। কুড়ি টাকা চুরির অপবাদে ছয় বছরের শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মার ধর করা হয়। তার মুখে পাথর গুঁজে দেওয়া হয়। চুলের মুঠি ধরে টানাটানি করা হয়। তখন শিশুটি রাস্তায় ছটফট করছে। কাঁদছে। চিৎকার করে সাহায্য প্রার্থনা করেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ভাগলপুর এলাকার কয়েকজন নারী নেত্রী ও সমাজসেবী।
তারা বর্বরতার সীমা ছাড়িয়ে সেই অত্যাচারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে। বৃহস্পতিবার শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা আক্রান্ত শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। শিশুটির মাতার সঙ্গে থাকে না বলেই খবর। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুচিত্রা দেবী এরকম একটি ঘটনার পরেও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না এনে তিনি শুক্রবার দিনভর বার্ষিক ক্রীড়ায় মেতে থাকলেন।
এই ক্রীড়া আয়োজনের শামিল ছিল ছয় বছরের নির্যাতিতা এই শিশু ছাত্রীটিও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকবরের জন্যেও এদিন এই ছাত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং সর্বোপরি আইনি বিষয়গুলি নিয়ে কোন ধরনের তৎপরতা দেখার নেই।
