আগরতলা:এরা প্রতিদিন রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে যান দুর্ঘটনায় অকালে অনেকের প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।ভয়াবহ যান দুর্ঘটনা! মালবাহী ১২ চাকা লরি সঙ্গে টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত চার।আহত ২।
ঘটনা শুক্রবার বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ কুমারঘাট থানার অন্তর্গত আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের সিদং ছড়া এলাকায়। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, টি আর জিরো টু সি -৩৯৯১ নম্বরের টমটম টি ছয় জন যাত্রী নিয়ে কুমারঘাট থেকে প্যাঁচার তলের দিকে যাচ্ছিলেন। সিদং এলাকায় আসতেই পেচারতল থেকে টি আর ০১ – এ ইউ ১৭৫৬ নম্বরের একটি মাল বোঝাই ১২ চাকার লরি কুমারঘাট এর দিকে আসছিল।
সেই সময় সিদং ছড়া এলাকায় যাত্রীবাহী টমটমটি জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু ১২ চাকার লরিটি অত্যন্ত দ্রুত গতি সম্পন্ন থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টমটমের উপর গিয়ে আছড়ে পড়ে।যার ফলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনা স্থলে ছুটে যান। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহ যোগিতায় এবং দমকল বাহিনীর কর্মীদের একান্ত প্রচেষ্টায় নিহত এবং আহতদের উদ্ধার করে কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে।
সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন কুমারঘাট মহকুমার পুলিশ আধিকারিক, কৈলাশহর থানার ওসি সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকগণ। হাসপাতালে চিকিৎসক দ্রুততার সহিত তাদের পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে আরো দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অন্যদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি তাদের কৈলাশহর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।কিন্তু কৈলাশহর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মায়া রানী দেবনাথ , বাড়ি প্যাঁচারতল এলাকায়। তাকে শিলচর রেফার করা হয়েছে বলে জানা যায়। ইতিমধ্যেই একজনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফটিকরায় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ভয়াবহ যান দুর্ঘটনায় কুমারঘাট ও প্যাঁচার থলে তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর সুখের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহত আহত ব্যক্তিদের প্রিয় পরিজন সহ বিভিন্ন লোকজন জড়ো হয়েছেন কুমারঘাট হাসপাতাল চত্বরে।
নিহত এবং আহতদের আত্মীয় পরিজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। যার ফলে কুমারঘাট হাসপাতালের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নিহতরা হলো, ভাস্কর গোস্বামী, বয়স ৪৫, বাড়ি কুমারঘাট মহকুমার অন্তর্গত উত্তর পাবিয়া ছড়া এলাকায়। কাঞ্চনা চাকমা, বয়স ৫৫, বাড়ি লংতরাইভ্যালী মহকুমার শিববাড়ি চরক ভাই এলাকায়। হরিশংকর দেবতা, বয়স ৫২, বাড়ি মাছলি এলাকায়।গরিমিলি চাকমা, উনার বাড়িও মাছলি এলাকায়। আহতরা হলেন, যাত্রা পতি চাকমা, বয়স ৪২, বাড়ি মাছলি এলাকায়।মায়া রানী দেবনাথ, বাড়ি প্যাঁচার থল এলাকায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর রেফার করা হয়েছে।
কিন্তু দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ঘাতক ১২ চাকার লরির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনা গ্রস্ত টমটম এবং ঘাতক ১২ চাকার লরিটি আটক করে কুমারঘাট থানায় নিয়ে আসে বলে জানা যায়। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনা জনিত ঘটনার একটি মামলা নিয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে।
