আগরতলা: নতুন ভি বি-জি রাম জি আইন শুধু মাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।।
এ তথ্য জানান কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, আজ মোহনপুর ব্লকের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায়।
ব্লক এলাকার সমস্ত পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি, পূর্বতন রেগা-র সঙ্গে যুক্ত কর্মী, বিভিন্ন লাইন ডিপার্টমেন্টের আধিকারিক ও বিডিও-র উপস্থিতিতে ভি বি-জি রাম জি আইন নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ভি বি-জিরামজি আইন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সঠিকভাবে প্রচার ও জ্ঞাতকরণ মাধ্যমে।
তিনি বলেন, নতুন এই আইন মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত, এবং এর সফল বাস্তবায়ন জনগণের অংশগ্রহণের উপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৪-এর আগে, গত ১০ বছরে মনরেগা -এর মোট বাজেট ছিল ২ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সময়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। আইন পূর্বেও ছিল, তাহলে বাজেট এত কম কেন? প্রধানমন্ত্রী মোদি সর্বদা গ্রাম, কৃষক ও দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। প্রতিবছর বাজেটের মধ্যে মনরেগা-এর জন্য স্বতন্ত্র বরাদ্দ থাকে। ২০১৪-এর আগে সর্বোচ্চ বার্ষিক বাজেট ছিল ৩৩ হাজার কোটি টাকা, আর প্রধানমন্ত্রী মোদির সময় এটি হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এখন আপনি বাস্তবতা বুঝতে পারছেন।
মন্ত্রী বলেন, মনরেগা-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্পদ সৃষ্টি। গত সাত বছরে আমাদের রাজ্যে ৮ লক্ষ ১০ হাজার সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে, আর ২০১৮-এর আগে সাত বছরে ছিল ৬ লক্ষ ৬৭ হাজার সম্পদ। মজুরি প্রদানে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সাত বছরে মজুরি হিসেবে প্রদেয় হয়েছে ৫,৩৩২ কোটি টাকা, আগের সাত বছরে ছিল ৪,২৪০ কোটি টাকা। আমাদের রাজ্যে ৬ লক্ষ ৫৬ হাজার চাকরির কার্ড রয়েছে, কর্মীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ২০ হাজার। কার্যদিবসের সংখ্যা ১০০ থেকে বেড়ে ১২৫ দিন হয়েছে। ভি বি-জি রাম জি জল সংরক্ষণ, জল নিরাপত্তা, সম্পদ সৃষ্টি, জীবিকা উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্ব দিচ্ছে ।
তিনি বলেন মনরেগার সময় বামফ্রন্ট সরকারের অধীনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল কিন্তু ভি বি-জি রাম জি এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। পূর্বে কর্মীরা প্রায়শই মজুরি পেতে দেরি হত । এই ব্যবস্থায় মজুরি সরাসরি কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হবে, যা স্বচ্ছতা ও সময়মতো মজুরি নিশ্চিত করবে ।
