আগরতলা : বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বিজেপির প্রদেশ সহ-সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা, বিজেপি যুব মোর্চার প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক শম্ভুলাল চাকমা এবং প্রদেশ মিডিয়া ইনচার্জ সুনিত সরকার।
সাংবাদিক সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন সংসদ তরুণ বিজয়। তিনি জানান, উত্তরাখণ্ডের জনতার পক্ষ থেকে ত্রিপুরার সন্তান, মর্মান্তিক ঘটনার শিকার এঞ্জেল চাকমার পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই তিনি রাজ্যে এসেছেন। শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দুঃখের ভাগ নিতে এবং ন্যায়বিচারের দাবি জোরদার করতেই তাঁর এই সফর। তরুণ বিজয় বলেন, “এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি হওয়া উচিত। আমরা চাই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হোক।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর উত্তরাখণ্ড সরকার দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন এখনও পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তরাখণ্ড পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তরুণ বিজয় বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরাখণ্ডের প্রতিটি প্রান্তে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হচ্ছে। এমন আবেগঘন ও অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া উত্তরাখণ্ডে আগে কখনও দেখা যায়নি। রাজ্যবাসী একযোগে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। এর আগে আগরতলায় এসে তিনি এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ও বিভিন্ন মহল থেকে যে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে, সে সব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে এদিন অনিচ্ছুক ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ তরুণ বিজয়। তাঁর এই অবস্থান ঘিরে সাংবাদিক মহলে কিছুটা কৌতূহল ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এঞ্জেল চাকমার মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের সুর আরও জোরালো হচ্ছে।
