আগরতলা:মন রেগায় গান্ধীজীর পরিচয় মুছে দিয়ে মোদি সরকার গান্ধীজীর উত্তরাধিকার এবং শ্রমিকদের অধিকার উভয়কেই আক্রমণ করেন।তারই প্রতিবাদে শুক্রবার সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরার প্রদেশ অসংঘটিত শ্রমিক কংগ্রেস এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন।

প্রদেশ কংগ্রেস ভবন থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে সার্কিট হাউসে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু বুদ্ধ মন্দির এলাকায় যেতেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ এবং বুদ্ধ মন্দির এলাকাতেই অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেসের নেতৃত্বরা বিলের কপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ শেষ করেন। ত্রিপুরা প্রদেশ অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তনু পাল বলেন, মন রেগা বাতিল করে প্রণীত শ্রমজীবী স্বার্থ বিরোধী বিকশিত ভারত জি রামজি আইন প্রত্যাহার করতে হবে।

কোটি কোটি মানুষের জীবন জীবিকার অধিকার কেড়ে নিতে জনবিরোধী স্বৈরাচারী বিজেপি সরকারের আমলে জাতির জনকের চিন্তার বিরুদ্ধে নতুন আইন করা হলো। এই আইন করার মাধ্যমে বিজেপি তার শ্রেণী ও রাজনৈতিক চরিত্র প্রকাশ করেছে।দেশের গ্রামের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করে,তাদের জীবন জীবিকা ধ্বংসের পথে নিয়ে যায় গেল। আসলে বিজেপি যে স্বৈরাচারী শাসক এবার তা আরো একবার প্রমাণ হলো। তিনি বলেন আগে কেন্দ্রীয় সরকার রেগা প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থ বহন করত।

রাজ্য সরকার গুলি মাত্র ১০% অর্থ দিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে মজুরির ৪০ শতাংশ অর্থ রাজ্য সরকার গুলোর উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই বিলে গ্রাম পঞ্চায়েত ও গ্রামসভার হাতে কোনও ক্ষমতাই নেই। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত এই প্রকল্পটি গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে আশীর্বাদ ছিল। গ্রামীন এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক বিকাশে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রথম ইউ পিএ সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা এখন বন্ধ করে দিতে চাইছে। এম জি এন রেগা প্রণয়ন করার ফলে গ্রামীণ শ্রমজীবী জনগণ খানিকটা হলেও নিশ্চিত কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন।

কিন্তু বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বছরে ১০০ শ্রম দিবসকে দ্বিগুণ করবেন এবং মজুরিও দ্বিগুণ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন জনগণকে প্রতারিত করে এম জি এন রেগা আইন বাতিল করে তার জাগায় বিকশিত ভারত গ্রামীণ রোজগার ও আজিবিকা মিশন গ্রামীন বিল এনে সংসদে সংখ্যার জোরে আইন প্রণয়ন করতে চাইছে। যেখানে ১০০ দিনের কাজকে এখন আর সুরক্ষিত রাখছে না সরকার। রেগাকে হত্যা করে বিকশিত ভারত জি রামজি কোন স্বার্থে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *